আশরাফুল ইসলাম সবুজ, (পাইকগাছা-কয়রা প্রতিনিধি ):
সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মঠবাড়ি গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলার প্রলয়ংকরী প্রভাব এখনো তাদের জীবন থেকে পুরোপুরি মুছে যায়নি। আইলার পানির তীব্র স্রোতে শাকবাড়িয়া নদীর বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে তৈরি হয় একটি খাল, যা আজও ভরাট করা সম্ভব হয়নি। মহারাজপুর ইউনিয়নের পাবলা খালটি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে তিনটি গ্রামের শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। গ্রামটির একমাত্র কমিউনিটি ক্লিনিকও খালের এক পাশে অবস্থিত হওয়ায় চিকিৎসা নিতে আসা মানুষদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের পশ্চিম পাশে প্রতাপ স্মরণী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মঠবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। প্রথমে শিক্ষার্থীরা ছোট নৌকায় পারাপার করলেও নৌকা সব সময় পাওয়া যায় না। পরে কলার ভেলায় পার হতে গিয়ে ঝুঁকি বেড়ে যায়। বর্তমানে প্লাস্টিকের ড্রামের উপর কাঠের পাটাতন বসিয়ে তৈরি বিশেষ ভেলায় পারাপার করা হচ্ছে। খালের দুই পাশে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা রশি ধরে মানুষ নিজে ভেলা টেনে পার হচ্ছে।
খালের পূর্ব পাশে সুপেয় পানির সংকট থাকায় বাসিন্দারা প্রতিদিন ভেলায় পার হয়ে পশ্চিম পাশ থেকে পানি সংগ্রহ করেন। গ্রামবাসীর উপজেলা সদরে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যমও এই ভেলা। প্রায় ৪ হাজার মানুষের এ গ্রামে এমন যোগাযোগ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। মঠবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, একবার ভেলায় পার হওয়ার সময় উল্টে শিক্ষার্থীরা খালে পড়ে যায়। স্থানীয়রা শিশুদের উদ্ধার করলেও তাদের বইপত্র নষ্ট হয়ে যায়।
প্রতিদিন তিন শতাধিক শিক্ষার্থী এই খাল পার হয়ে স্কুলে আসে। অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে সবসময় উদ্বিগ্ন থাকেন। স্থানীয় বাসিন্দা আনিছুর রহমান বলেন, আইলার পর থেকেই শুনছি খালের উপর ব্রিজ হবে। ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সেটি আজও বাস্তবায়ন হয়নি। বর্ষাকালে ভেলায় পারাপার খুবই বিপজ্জনক। খাল পেরোতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই বিপদে পড়ে।
স্হানীয় ইউপি সদস্য আবু সাইদ জানান, খাল পারাপারে এলাকার মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ। খালের ওপর একটি সেতু হলে কয়েক হাজার মানুষ নিরাপদে যাতায়াতের সুযোগ পাবে। এটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছি। সর্বোপরি মঠবাড়ি ও আশপাশের গ্রামের মানুষের দাবি শিগগিরই খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করে তাদের দৈনন্দিন দুর্ভোগ লাঘব করা হোক।