শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায়, চলবলা ইউনিয়ন বিএনপির দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম শান্তকে তারেক রহমানের উপহার ২০২৬ সালের রমজান কবে? ওমানে নিহত মা-ছেলেসহ ৩ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরছে আজ বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তারেক রহমান থাইল্যান্ডে আবারও ভেঙে পড়ল ক্রেন, নিহত ২ জুবিন গার্গ এর করুণ মৃত্যুর আসল কারণ জানাল সিঙ্গাপুরের পুলিশ নির্বাচনে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে দেশের সার্বভৌমত্ব বিঘ্নিত হবে : দুদু মীরসরাই-সীতাকুন্ড সহ পুরো চট্টগ্রাম ব্যাপী ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য, উদ্বিগ্ন প্রশাসন ও প্রকৃত সংবাদকর্মীরা অশালীন’ পরামর্শ দিয়ে বিপাকে হানি সিং

রমজানের প্রস্তুতিমূলক তিন আমল

রাসূল সা. রজব মাস থেকেই রমজান মাসকে স্মরণ করতেন এবং এ মাস থেকেই রমজানের প্রস্তুতি নিতে শুরু করতেন। এখানে হাদিসের আলোকে রমজানের প্রস্তুতিমূলক তিনটি আমল তুলে ধরা হলো—
আইয়ামে বিজের রোজা

আইয়াম হলো আরবি ইয়াওম শব্দের বহুবচন। যার অর্থ হলো দিনগুলো। আর বীজ শব্দের অর্থ সাদা, শুভ্র। আইয়ামে বীজ দ্বারা চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ বোঝানো হয়। এই তারিখগুলোতে জ্যোৎস্নায় রাতগুলো শুভ্র ও আলোকিত হয়। বিশেষত মরুভূমিতে এটি বেশি দৃষ্টিগোচর হয়। এ কারণে তারিখগুলোকে একসঙ্গে বোঝাতে ‘আইয়ামে বীজ’ নামকরণ করা হয়েছে।

রাসুল সা. আইয়ামে বীজে (আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে) রোজা রেখেছেন এবং সাহাবিদের রোজাগুলো রাখতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। হজরত আবু যার রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সা বলেন, হে আবু যার! যখন তুমি মাসের মধ্যে তিন দিন রোজা রাখবে; তবে ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখবে।’(তিরমিজি, নাসাঈ, মিশকাত)

তবে এই তারিখে রাখা সম্ভব না হলে মাসের যেকোন তারিখে রাখা যাবে।আয়েশা রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাসের যেকোন দিনে তিনটি সিয়াম রাখতেন। (মুসলিম হা/২৮০১; মিশকাত হা/২০৪৬)

প্রত্যেক মাসে ৩টা করে রোজা পালন করলে সারা বছর নফল রোজা পালনের সমান সওয়াব পাওয়া যায়। আব্দুল্লাহ ইবনে আ’মর ইবনে আ’স (রা.) হতে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রতি মাসে তিনটি করে রোজা পালন, সারা বছর ধরে রোজা পালনের সমান’। (বুখারি শরীফ)

সপ্তাহের দুই দিনের রোজা

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব নফল ইবাদত করতেন তার অন্যতম একটি হলো- সপ্তাহের দুই দিন অর্থাৎ সোম ও বৃহস্পতিবারের রোজা।

এই দুই দিনের রোজা সম্পর্কে হজরত আবু কাতাদা আনসারি রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সোমবার দিনে রোজা রাখার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এই দিন আমি জন্ম নিয়েছি, আর এদিনই আমার উপর কোরআন নাজিল হয়েছে। (মুসলিম, হাদিস, ২৮০৭; ইবনে খুজাইমা, হাদিস, ২১১৭; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস, ২২৫৫০; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস, ২৪২৮)

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সোমবার ও বৃহস্পতিবার আল্লাহর কাছে আমল উপস্থাপন করা হয়। তাই রোজা থাকা অবস্থায় আমার আমল উপস্থাপন করা হোক— এটা পছন্দ করি।’ (তিরমিজি, হাদিস, ৭৪৭; সুনানে নাসায়ি, হাদিস, ২৬৬৭)

রাবিআ ইবনুল গাজ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি আয়শা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-এর কাছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম-এর রোজা রাখার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেন। তখন তিনি জবাবে বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম সোমবার ও বৃহস্পতিবারে রোজা রাখার ব্যাপারে খুবই মনোযোগী ছিলেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস, ১৭৩৯; ইবনে হিব্বান, হাদিস, ৩৬৪৩)

রজব মাসের দোয়া

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রজব মাসকে খুবই গুরুত্ব দিতেন। রজবের চাঁদ দেখা গেলেই তিনি রমজানের প্রস্তুতিমূলক কিছু বিশেষ আমল শুরু করতেন। এ মাস শুরু হলে তিনি এই দোয়া পড়তেন,

আরবি :

اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَجَبٍ وَشَعْبَانَ وَبلغنا رَمَضَانَ

বাংলা উচ্চারণ :

‘আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফি রাজাবা ওয়া শাবানা, ওয়া বাল্লিগনা রমাদান।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসকে বরকতময় করে দিন। আর আমাদের রমজান মাস পর্যন্ত পৌঁছে দিন।’ ( সুনানে নাসায়ি ও মুসনাদে আহমাদ)।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Like Our Page