বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান। রোজাদারের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত ইফতারের সময়। কারণ এ সময় আল্লাহতাআলা তাঁর রোজাদার বান্দাদের দোয়া কবুল করেন এবং ইফতারের মাধ্যমেই একজন রোজাদার তাঁর রোজা সম্পন্নের পর মহান আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জন করেন।
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে তৃতীয় হলো রমজান মাসের রোজা। রমজানের তিন দশককে তিন ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। প্রথম দশক রহমত। দ্বিতীয় দশক মাগফিরাত। আর তৃতীয় দশক নাজাত। রোজা হলো সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার, পঞ্চইন্দ্রিয়ের দ্বারা গুনাহের কাজ ও যৌনসঙ্গম থেকে বিরত থাকা। রমজান মাসে ইবাদত করলে সত্তর গুণ বেশি সওয়াব পাওয়া যায়।
প্রিয় নবী (সা.) খেজুর ও কয়েক ঢোঁক পানি দিয়েই ইফতার শুরু করতেন। সময়ের পরিবর্তনে তাতে যোগ হয়েছে হরেক রকম খাবার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফল, জুস, খেজুর, পানি, দুধ বেশ প্রচলিত।
রোজা ভালোভাবে পালনের জন্য শারীরিক সুস্থতা খুবই প্রয়োজন। অপরিকল্পিত খাদ্যাভাসের কারণে রোজায় অনেক স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। রমজানে ইফতার ও সেহরিতে খাদ্যগ্রহণে সর্তক হতে হবে।
সারাদিনে যেহেতু পানি পান করা যাবে না তাই দেহের আর্দ্রতা নিশ্চিত করার বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। রমজানে পানি পান করতে হবে ধীরে। একবারে ও বেশি পরিমাণে পানি পান করা কিডনি বা বৃক্কের ওপরে চাপ বাড়াতে পারে। তাই সতর্ক থাকা উচিত। ইফতারে ভারী বা তেল-মসলা যুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে শরীরে নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সারা দিন রোজার পরে ইফতারেও খাওয়া পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। ইফাতারে খাবার খেতে হবে ধীরে, কিছুটা সময় নিয়ে ও ভালো মতো চিবিয়ে। গরমে শরীর বেশি ঘামে। তাই ইফতারে দেহে পানির চাহিদা পূরণ করতে তরল-জাতীয় খাবার ও পানি পান করতে হবে। এই সময় পারতপক্ষে বাইরের জুস বা কৃত্রিম পানীয় পান না করাই ভালো।
রোজা রাখার পর সারা দিনের ক্লান্তি কাটাতে ইফতারে চাই এমন কিছু, যা তেষ্টা মেটাবে এবং দূর করবে ক্লান্তি। এক গ্লাস ঠান্ডা ফলের শরবত সারা দিনের ক্লান্তি মুছে শরীরকে চাঙা করতেই শুধু ভূমিকা রাখে না, একই সঙ্গে অবসাদ ঘুচিয়ে দিতেও বেশ কার্যকরী। তাই ইফতারে সবার চাই স্বাস্থ্যকর এক গ্লাস ফলের শরবত অথবা স্মুদি।
কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি ছাড়াই এসব শরবত আপনার ও আপনার পরিবারকে করবে প্রাণবন্ত। সেই সাথে তাজা ফলের তৈরি শরবতের পুষ্টিগুণ আপনাকে করবে সতেজ ও সুন্দর। চলুন চটপট কিছু সহজ, সুস্বাদু শরবত তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ, প্রস্তুত প্রণালী ও উপকারিতা দেখে নেয়া যাক।
লেবুর শরবত
উপকরণ
চিনি- পরিমাণমত, লবণ- একচামচ, পানি- এক বোতল, লেবু- ২/৩টি, লেবুর খোসা- ১ চা-চামচ। ছোট করে গ্রেট করে কাটা। পুদিনা পাতা- কয়েকটি থেঁতো করা, বরফ
তরমুজের শরবত
উপকরণঃ
তরমুজ কুচি দুইকাপ, চিনি ২ টেবিল চামচ, বিট লবণ আধা চা চামচ, লেবুর রস ২ চা চামচ, বরফ কুচি।
তেঁতুলের শরবত
উপকরণ
তেঁতুল, বিট লবণ, চিনি, কাঁচা মরিচ কুচি, ধনিয়া পাতা কুচি, শুকনা মরিচের গুড়া, ঠাণ্ডা পানি।
আনারসের শরবত
উপকরণ
আনারস কুচি ১ কাপ, বিট লবণ আধা চা চামচ, চিনি ২ চা চামচ, গোলমরিচের গুঁড়া ২ চা চামচ, পানি পরিমাণমতো।