ফেনীর পরশুরামে ১২০ টাকায় পুলিশে চাকরি পেয়েছেন ২০ তরুণ। চাকরি পেয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে চোখের কোনায় পানি টলমল করতে দেখা গেছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ লাইনের গ্রিল শেডে পুলিশের কনস্টেবল পদে চুড়ান্তভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন ২০ জন। রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে মৌলিক প্রশিক্ষণের উদ্দেশে যাওয়ার পূর্বে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ফেনী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানের এক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে তারা নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
পরশুরামের রিকশাচালক সাগর আহমেদের ছেলে সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘আমি ১২০ টাকায় আবেদন করে পুলিশে চাকরি পেয়েছি। কাউকে কোনো উৎকোচ প্রদান করতে হয়নি। এ জন্য পুলিশ সুপারসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।’
সিএনজি চালিত অটোরিকশাচালক ইকবাল হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার বাবা অটোরিকশাচালক।
আমি অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছি। আমার ঘুষ দেওয়ার মতো অর্থ নেই। পুলিশে স্বচ্চতার নিয়োগ পরীক্ষায় আমি উত্তীর্ণ হয়েছি।’
কৃষক আব্দুল মতিন ছেলে আবু বকর ছিদ্দিক জানান, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেখে একটি কম্পিউটার দোকান থেকে আবেদন করেন।
মাত্র ১২০ টাকা ফি’তে অনলাইনে আবেদন করে কনস্টেবলে সুযোগ পেয়ে যাবেন, তা তিনি স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘যদিও আগে বিভিন্ন লেনদেনের কথা শোনা যেতো। কিন্তু আমরা কোনো ধরনের লেনদেন ছাড়াই চাকরি পেয়েছি। আমাদের এই আনন্দ বলে বোঝানোর মতো না।’
পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগ পরীক্ষা নিয়েছি।
নিয়োগ পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয়েছেন তাদের কাউকে এক টাকাও দিতে হয়নি। তিনি নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২০ জনের কাছে সরাসরি জানতে চান কাউকে টাকা দিযেছে কিনা, তারা সবাই জানান কাউকে এক টাকাও টাকা দিতে হয়নি।’
কনস্টেবল পদে উত্তীর্ণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা সবাই চাকরি জীবনে সততার সঙ্গে চাকরি করবেন। মানুষকে সেবা দিবেন, আপনারা পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবেন।’ পরে উত্তীর্ণ ২০ জনকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন পুলিশ সুপার।