বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
হাসনাত আব্দুল্লাহকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা নির্বাচনের দিন পুরো চট্টগ্রাম জুড়ে সাংবাদিকতার নামে নির্লজ্জ চাঁদাবাজির ঘটনায় নিন্দা ও ধিক্কার পুরো চট্টগ্রাম ব্যাপী জাল ভোট সহ দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সমাপ্ত কয়েকটি আসনে অনিয়মের অভিযোগ জামায়াতের, স্থগিত করার দাবি বিয়ের সাজে ভোট দিলেন যুবক নীরব ঘাতক রোগ হাইপোগ্লাইসেমিয়া, সতর্ক থাকবেন যেভাবে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি বাড়লে, কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি রাশিয়ার  আজ আমরা সম্পূর্ণরূপে নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টির সুযোগ পেলাম : প্রধান উপদেষ্টা  ভোট দিলেন প্রধান উপদেষ্টা আশা করছি বিএনপি বিপুল ব্যবধানে জিতবে, ভোট দিয়ে তারেক রহমান

‘আমরা কারাগারে ছিলাম না, এক কসাইখানায়’: মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনিরা

ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনিরা তাদের বন্দিজীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। আল–জাজিরার সঙ্গে কথা বলার সময় তারা জানিয়েছেন, কারাগারের পরিবেশ ছিল অমানবিক এবং খাবারের ব্যবস্থা ছিল নিকৃষ্ট।

মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে একজন আবদাল্লাহ আবু রাফি বলেন, “আমরা কারাগারে ছিলাম না, এক কসাইখানায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওই কসাইখানার নাম ছিল ওফের কারাগার। অনেক তরুণ এখনও সেখানে বন্দি। কারাগারের অবস্থা ভয়ংকর—কোনো তোশক নেই, সব সময় তোশকগুলো নিয়ে যায়, খাবারের মান খুব খারাপ, সবকিছুই কঠিন।”
অন্য মুক্তিপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি ইয়াসিন আবু বলেন, “খুব, খুব খারাপ। খাবার, নির্যাতন, প্রহার—সবকিছুই ভয়ানক। চার দিন ধরে আমি কিছুই খাইনি। এখানে (খান ইউনিসে) এসে আমাকে দুটি মিষ্টি দেওয়া হয়েছে, সেগুলোই খেয়েছি।”

ইসরায়েল সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ২৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দিয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকে আজীবন বা দীর্ঘমেয়াদি সাজা ভোগ করছিলেন। গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আরও প্রায় ১ হাজার ৭১৮ জন ফিলিস্তিনি বন্দীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ এই বন্দীদের ‘বলপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তি’ হিসেবে বিবেচনা করেছে।

মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে আছেন সাইদ শুবাইরও। তিনি জানান, “এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। কারাগারের বাইরে মুক্ত আকাশে সূর্য দেখা—এটা এক অবর্ণনীয় অভিজ্ঞতা। আমার হাত এখন শৃঙ্খলমুক্ত। স্বাধীনতার কোনো মূল্য হয় না; এটা অমূল্য।”

মুক্তিপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনিরা কারাগারের নির্যাতন এবং অমানবিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, যে কোনো বন্দির জন্য স্বাধীনতা এবং নিরাপদ পরিবেশ অপরিহার্য।

উল্লেখ্য, হামাসের হাতে থাকা জীবিত ২০ জিম্মিকে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা রেডক্রসের মাধ্যমে ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর পরপরই ইসরায়েল ৩ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলায় ইসরায়েলে নিহত হয় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন, এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয় গাজায়। সেই হামলার পর থেকেই গাজায় নির্বিচার অভিযান চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। প্রায় দুই বছরে নিহত হন ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Like Our Page