বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
হাসনাত আব্দুল্লাহকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা নির্বাচনের দিন পুরো চট্টগ্রাম জুড়ে সাংবাদিকতার নামে নির্লজ্জ চাঁদাবাজির ঘটনায় নিন্দা ও ধিক্কার পুরো চট্টগ্রাম ব্যাপী জাল ভোট সহ দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সমাপ্ত কয়েকটি আসনে অনিয়মের অভিযোগ জামায়াতের, স্থগিত করার দাবি বিয়ের সাজে ভোট দিলেন যুবক নীরব ঘাতক রোগ হাইপোগ্লাইসেমিয়া, সতর্ক থাকবেন যেভাবে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি বাড়লে, কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি রাশিয়ার  আজ আমরা সম্পূর্ণরূপে নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টির সুযোগ পেলাম : প্রধান উপদেষ্টা  ভোট দিলেন প্রধান উপদেষ্টা আশা করছি বিএনপি বিপুল ব্যবধানে জিতবে, ভোট দিয়ে তারেক রহমান

স্থানীয় সরকার বিভাগের কড়া নির্দেশ উপেক্ষিত: চার্জশিটভুক্ত প্রকৌশলীকে রক্ষায় ‘প্রশ্নবিদ্ধ নীরবতা’ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের

এম এস রহমান :

​গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (গাসিক) কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নীরবতা এবং নিষ্ক্রিয়তার কারণে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. ইব্রাহিম খলিল স্বপদেই বহাল আছেন। স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিডি) কর্তৃক তাকে সাময়িক বরখাস্ত ও চাকরি থেকে অপসারণের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়ার পরও পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও গাসিক কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রতি এমন চরম অবজ্ঞা এবং বিধি লঙ্ঘনের স্পষ্ট দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সিটি কর্পোরেশন।
​কঠোর নির্দেশনা উপেক্ষা।

গত ১৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক জারি করা এক স্মারকে (স্মারক নং: ৪৬.০০.০০০০.০৭১.২৭.০৩৫.২০২১-৫৩৬) স্পষ্টভাবে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয় যে, দুদকে চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়ায় নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) (চলতি দায়িত্ব) জনাব মোঃ ইব্রাহিম খলিলকে বিধি মোতাবেক সাময়িক বরখাস্ত এবং চাকরি হতে অপসারণের কার্যক্রম গ্রহণ করে স্থানীয় সরকার বিভাগকে দ্রুত অবহিত করতে হবে। তবে এই কঠোর নির্দেশনা জারির চার দিন পরও গাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তার ভূমিকা এখন গুরুতর প্রশ্নের মুখে।
​প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগ:
দুদকের অনুসন্ধানে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইব্রাহিম খলিল এবং তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

​প্রকৌশলী মো. ইব্রাহিম খলিল: তার নামে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৪৯ হাজার ৩৫ টাকার (১,৪৬,৪৯,০৩৫/- টাকা) বেশি জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়াও, তার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে বেতন-ভাতার বাইরেও মোট ৮ কোটি ৭১ লাখ ৪১ হাজার ৮১ টাকার (৮,৭১,৪১,০৮১/- টাকা) সন্দেহজনক ও অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
​স্ত্রী মনোয়ারা বেগম: দুদক অনুসন্ধানে তার নামে মোট ১ কোটি ৮২ লাখ ১ হাজার ২৪৮ টাকার (১,৮২,০১,২৪৮/- টাকা) স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ পাওয়া গেলেও, তিনি ১ কোটি ৫৬ লাখ ৭ হাজার ৩৩০ টাকার (১,৫৬,০৭,৩৩০/- টাকা) বৈধ উৎস দেখাতে পারেন। অবশিষ্ট ২৫ লাখ ৯৩ হাজার ৯১৮ টাকার (২৫,৯৩,৯১৮/- টাকা) জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অপরাধে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় মামলা দায়ের হয়। তিনিও তার স্বামীর সাথে মামলায় অভিযুক্ত।

​দুদক এ বিষয়ে তদন্ত শেষে ২২ মে ২০২৫ তারিখে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেয় এবং ২৯ জুন ২০২৫ তারিখে বিজ্ঞ সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে জুডিশিয়াল নথি দাখিল করে।
​নিয়োগ ও দুর্নীতির পুরাতন অভিযোগ।
জানা যায়, একজন নাগরিকের আবেদনের প্রেক্ষিতেই সরকার এই পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। ওই আবেদনে প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিলের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়।​তিনি ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি একটি ভুয়া নিয়োগপত্র ব্যবহার করে, টাকার বিনিময়ে এবং স্থানীয় চাপের মুখে ভাইভাতে প্রথম স্থান অধিকারীকে বাদ দিয়ে পঞ্চম স্থান অধিকারী হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন।

​চাকরি পাওয়ার পর তিনি সীমাহীন দুর্নীতি করেছেন। নিজের ঠিকাদারি ফার্মের নামে দীর্ঘদিন কাজ না করেও টাকা কামিয়েছেন।
​তিনি সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর ও কিরণ (ভারপ্রাপ্ত)-এর পক্ষে জাতীয় নির্বাচন ও ইজতেমা উপলক্ষে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করেছেন এবং পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি অপ্রসারণের নামে কাজ না করে ঠিকাদারের সাথে সরাসরি টাকা ভাগাভাগি করেছেন। দুদকের মামলা এবং উচ্চতর কর্তৃপক্ষের সরাসরি নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও গাসিকের এই ‘প্রশ্নবিদ্ধ নীরবতা’ জনমনে তীব্র অসন্তোষ ও সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, সিটি কর্পোরেশন এমন নির্দেশ উপেক্ষা করলে তা সংস্থার মধ্যে দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণকেই ইঙ্গিত করে। সংশ্লিষ্ট মহল অবিলম্বে এই নির্দেশনা কার্যকর করে চার্জশিটভুক্ত প্রকৌশলী মোঃ ইব্রাহিম খলিলকে সাময়িক বরখাস্ত এবং চূড়ান্ত অপসারণের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য গাসিক কর্তৃপক্ষের প্রতি তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে। অন্যথায়, নির্দেশ অমান্যকারী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Like Our Page