জিবিসি ডেস্ক :
মিয়ানমার থেকে অন্তত সাতটি সীমান্ত পথ ব্যবহার করে বাংলাদেশে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ করছে। তদন্তে জানা গেছে, এই পাচারে অন্তত পাঁচটি চক্র সক্রিয়, যার মধ্যে চারটি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন—আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা), রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও), হালিম গ্রুপ ও নবী হোসেন গ্রুপ।
এই অস্ত্রগুলো মূলত কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় সক্রিয় সন্ত্রাসীদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর অবস্থান সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় পাচারকারীরা সহজেই এসব অস্ত্র সরবরাহ করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. সাইফউদ্দীন শাহীন বলেন, সম্প্রতি উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের মরাগাছতলায় অভিযান চালিয়ে দুটি অগ্নেয়াস্ত্র, পাঁচটি কার্তুজ ও দুই হাজার ইয়াবাসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তারা স্বীকার করেছে, এসব অস্ত্র ও মাদক মিয়ানমার সীমান্ত থেকে আনা হয়েছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্র জানায়, মিয়ানমার থেকে অস্ত্র পাচারকারীরা প্রথমে কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নেয় এবং সেখান থেকে বিভিন্ন গোষ্ঠীর হাতে অস্ত্র সরবরাহ করে। গত তিন মাসে বিজিবি ২২টির বেশি দেশি ও বিদেশি অস্ত্রের চালান আটক করেছে।
তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ২৭১ কিলোমিটার জুড়ে সাতটি পথ ব্যবহার করে অস্ত্র পাচার হচ্ছে। এর মধ্যে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম, বাইশফাঁড়ি, উখিয়ার পালংখালী ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নলবনিয়া এলাকা এবং টেকনাফের লেদা, নয়াপাড়া ও বরইতলী খাল সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত রুট।
অস্ত্রগুলোর উৎস মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য, যেখানে আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষের সময় বিজিপি ও সেনাদের ফেলে যাওয়া অস্ত্র রোহিঙ্গা সংগঠনগুলো লুট করে নেয়। পরবর্তীতে সেই অস্ত্র বাংলাদেশে পাচার করে বিভিন্ন অপরাধচক্র।
র্যাব-১৫ সূত্রে জানা যায়, গত দেড় বছরে কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে ২১টি বিদেশি অস্ত্রসহ এক হাজার ২৭৯টি অস্ত্র উদ্ধার এবং ১৬৩ জন অস্ত্রধারীকে আটক করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্তে অব্যাহত অস্ত্র প্রবাহ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠছে। এখনই কঠোর নজরদারি ও আন্তঃদেশীয় সহযোগিতা না বাড়ালে এই চক্রগুলো আরও সংগঠিত হয়ে উঠবে।
সূত্র : কালের কণ্ঠ