বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০৬:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদে বিরোধী দলের ওয়াকআউট ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার হলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে প্রাণ গেছে বা আহত হয়েছে অন্তত ১১০০ শিশু : ইউনিসেফ ঈদে ১৭ মার্চ থেকে দুটি নৌরুটে লঞ্চ-স্টিমার সার্ভিস চালু ইরান বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পরিস্থিতিতে নেই : ক্রীড়ামন্ত্রী আঞ্চলিক যুদ্ধ শিগগিরই ‘নতুন পর্যায়ে’ প্রবেশ করবে, ইরানের হুঁশিয়ারি সংসদ অধিবেশনে ড. ইউনূস-জাইমাসহ আরো রয়েছেন যারা স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি আজ থেকে দেশে কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু: প্রধানমন্ত্রী ছুটির দিনে জ্বালানি তেল নিয়ে সরকারের জরুরি নির্দেশনা

চট্টগ্রাম ১ মীরসরাই আসনে বিএনপি’র গ্রুপিংয়ের দ্বিধাবিভক্তি কাটেনি এখনো: নির্বাচনকালীন শংকা বিদ্যমান

এম, এ কাশেম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :

জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রাম ১ মীরসরাই আসনে বিএনপি’র গ্রুপিংয়ের দ্বিধাবিভক্তি কাটেনি এখনো: গ্রুপিয় নেতা-কর্মীরা এখনো যার যার অবস্থানে রয়েছে বলে একাধিক মাধ্যম থেকে জানা গেছে।যার কারনে নির্বাচনকালীন শংকা বিদ্যমান থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায়না বলে ও মতপ্রকাশ করেছেন অনেকেই।

বলাবাহুল্য যে, নির্বাচনে দল থেকে অনেকেই মনোনয়ন চাইতে পারেন কিন্তু, দলীয় ভাবে পাবেন মাত্র একজন। আর সেই একজন পাওয়ার বাকীরা দলকে ভালোবাসলে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক নির্দেশিত এমন কি দলের কর্ণধারের নির্দেশনা মানতে গিয়ে সবাই এক হয়ে দলের জন্য এবং দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে থেকে দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’র বিজয়ের জন্য নির্ধিধায় কাজ করে যেতে হয়/হবে ও। কিন্তু, চট্টগ্রাম ১ মীরসরাই আসনে তা এখনো অনুপস্থিত!
মনোনয়ন প্রত্যাশি হয়ে এতোদিন যে কাউকে মীরসরাই উপজেলার সর্বোত্র বিচরণ করতে দেখা গেছে তা গত ৪/৫ দিন যাবত একেবারেই লাপাত্তা/ ঠান্ডা হয়ে গেছে। এর বাইরে যে বা যারা এলাকায় নেই, এলাকার বাইরে বিশেষ করে বিদেশে থেকে ও মোটা অংকের টাকা পাঠিয়ে লোক দিয়ে বিভিন্ন ভাবে নিজের পক্ষে বিভিন্ন ভাবে কর্ম সাধনের মাধ্যমে নিজেকে তুলে ধরার প্রতিযোগিতায় মত্ত থাকতে দেখা যেতো/ গিয়েছিলো তারা ও রিতি মতো উদাহরণ হয়ে গেছে!
ফলে, অবস্থাদৃষ্টে মনে হওয়ার-ই কথা যে উক্ত ব্যাক্তি বিশেষরা দলকে নয় ভালোবাসে ব্যাক্তি স্বার্থকে!
চট্টগ্রামের ১ ওই মীরসরাই আসনে ৭/৮ জন মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলো। সবাইকে পরে কাটিয়ে নুরুল আমিন চেয়ারম্যান মনোনয়ন পেয়ে যাওয়ার সৌভাগ্যের অধিকার’র আসনে বসে পড়লেন। এর বাইরে যে বা যাদের দীর্ঘ বছরের পর বছর যাবত দলের জন্য লক্ষ, লক্ষ-কোটি টাকা খরচ করা সহ শ্রম-ঘাম সব কিছু বিলিয়ে দিয়ে শেষান্তে এসে মনোনয়ন পাওয়া থেকে বঞ্চিত কোনো ভাবে মেনে নিতে পারাটা এক প্রকার কষ্টকর ও বটে। তথাপি, দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারনী বোর্ড ভুলেবালে বা সঠিক যে ভাবেই হোক্ দলের সর্বশীর্ষ কর্ণধার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর মাধ্যমে মনোনয়ন দিয়ে দেয়া প্রার্থী/ব্যাক্তিকে পছন্দ না করলে ও দলের বৃহত্তরো স্বার্থে দল এবং দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’র জন্য কাজ করে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলে অনেকেই তা মনে করেন।
উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলা বিএনপি’র রাজনীতিতে একাধিক গ্রুপ রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলো। তার মধ্যে সর্বাল্লেকযোগ্য ছিলো- নুরুল আমিন, নুরুল আমিন চেয়ারম্যান ও শহিদুল ইসলাম চৌধুরী। এই তিন জনকে মনোনয়ন বোর্ডে ও ডাকা হয়েছিলো এবং এলাকায় কাজ করে যাওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু হুট করে মনোনয়ন দিয়ে দেয়া হলো নুরুল আমিন চেয়ারম্যানকে। যার কারণে বাকীরা তা মানতে না নারাজ। আর সেই কারণেই মনে হয় এখন পর্যন্ত তাদের কাউকে আর আগের মতো রাস্তাঘাট সহ সর্বোত্র দেখা যাচ্ছে না! আর দেশের বাইর থেকে যারা এতোদিন অঢেল টাকা খরচ করিয়ে তাদের বিভিন্ন কাজ করে আসছিলো তারা ও চুপসে গেছে! বলতে গেলে বলা চলে- তারা একেবারেই লাপাত্তা হয়ে গেছে।
তবে, মনোনয়ন পাওয়া নুরুল আমিন চেয়ারম্যান নাকি ইতিমধ্যে তার বিপক্ষিয় নেতাদের বাসা/বাড়ি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তাদের সাথে দেখা করে কথা বলে এসেছেন। এবং তা অব্যাহত রাখছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র থেকে জানা গেছে।
শেষ পর্যন্ত দেখে যাওয়ার পালা যে, নুরুল আমিন চেয়ারম্যান এর বিপক্ষিয় নেতা (মনোনয়ন প্রত্যাশি) এবং তাদের গ্রুপিয় নেতা-কর্মীরা ব্যাক্তি নয় দল মনোনীত প্রার্থী এবং দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’র পক্ষে কাজ করে যায় কী না। আর তা যদি না করে তারা তাদের ইনক্টিভিটিস দেখিয়ে যায় তাহলে নির্বাচনকালীন সময়ে ধানের শীষ প্রতীক বা প্রার্থীর ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
অবশ্য, এতো বছরকে বছর নুরুল আমিন চেয়ারম্যান এর একটা গ্রুপ থাকলে ও কিন্তু মনোনয়ন প্রাপ্তির পর গত নভেম্বর সে তার প্রথম নির্বাচনী সমাবেশ (মীরসরাই সদর ও বারইয়ারহাট পৌরসভা) এ প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে বলেছেন- আজ থেকে মীরসরাইতে চেয়ারম্যান গ্রুপ বলতে কোনো গ্রুপ থাকবে না। এবং চেয়ারম্যান গ্রুপ বিলুপ্ত করে তিনি এখন থেকে ধানের শীষ’র গ্রুপ হয়ে সবাইকে ধানের শীষ’র পক্ষে কাজ করার জন্য আহবান জানান।
কিন্তু, তার এমন ঘোষণা কে কটাক্ষ করে কেউ কেউ বলছেন- এটা লোক দেখানো ঘোষণা! ভিতরে ভিতরে চেয়ারম্যান গ্রুপ ঠিক-ই বহাল থাকবে/রয়েছে। এবং তার গ্রুপের লোকেরাই আগের মতো সেই পন্থায় বিভিন্ন অপকর্ম করার কারণে দলের দুর্নাম ঘটিয়ে যাবে। ফলে, ধানের শীষ এর গ্রুপ করার কথা বলার দরকার নেই। ধানের শীষ এর পক্ষে না থেকে কেউ বিপক্ষে যাবে না। সুতরাং, আগে তার গ্রুপের লোকজনকে দলের দুর্নাম ঘটানোর কর্ম থেকে বিরত রাখার ঘোষণা দেয়ার দরকার বলে ও মনে করেন অনেকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Like Our Page