মীরসরাই-সীতাকুন্ড সহ পুরো চট্টগ্রাম ব্যাপী ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য, উদ্বিগ্ন প্রশাসন ও প্রকৃত সংবাদকর্মীরা
এম, এ কাশেম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : সাংবাদিকতা রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম: সম্মানজনক পেশা হলেও উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাই ও সীতাকুণ্ড সহ অন্যান্য উপজেলায় সম্প্রতি এ পেশাকে ঘিরে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। এলাকায় আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট নিষিদ্ধ কার্যক্রমে যুক্ত ব্যক্তি, মেকার, সেলসম্যান, দোকানদার সহ নানা: পেশার লোকজন নিজেদের ‘সাংবাদিক’ পরিচয়ে উপস্থাপন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে আওয়ামী ঘরানার কয়েকজন সাংবাদিক ও জড়িত রয়েছে!
অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী চক্র নিয়মিত অর্থের বিনিময়ে প্রেসকার্ড ও পরিচয়পত্র দিয়ে তাদের পুনর্বাসন করছে এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক ভাবে ব্যবহার করে চলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অশিক্ষিত ও সার্টিফিকেট বিহীন কিছু ব্যক্তি ভুয়া আইডি কার্ড কোমরে ঝুলিয়ে, গাড়ি ও মোটরসাইকেলের সামনে ‘PRESS’ লিখে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এদের কেউ কেউ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে ও জড়িত রয়েছে বলে বিভিন্ন ভাবে অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক পরিচয় গোপন রেখে একটি চক্র প্রশাসনের দু’নম্বরঈ সুবিধাবাজ- ধান্দাবাজদের সাথে সখ্যতা রেখে বিভিন্ন বৈঠক ও বিভিন্ন সংস্থার কর্মশালায় অংশ নিচ্ছে বলে ও জানা গেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, অনেকেই নিজস্ব কোনো গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ না করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে একাধিক স্ট্যাটাস দিয়ে নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে জাহির করছেন। কেউ কেউ আবার ফেইজবুকে যেনতেন আকারে পেজ খুলে তাতে ছবি সহ লিখে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে জাহির করে চলছে। কিছু ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্টজনদের সাথে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা প্রচার চালিয়ে নিজেদের বড় সাংবাদিক হিসেবে তুলে ধরছেন। অথচ, সংশ্লিষ্ট নেতারা অনেক সময় জানেন-ই না যে, ওইসব ব্যক্তি গোপনে একটি রাজনৈতিক দলের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে মীরসরাই উপজেলার বিএনপি’র অধিকাংশ নেতা-কর্মীরা তাদের ওই রকম কর্মের লেশমাত্র ও বুজেন না।
গণহারে এ ধরনের লেবাসধারী ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে চলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রকৃত সাংবাদিকদের নিয়ে ও নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব কথিত সাংবাদিকের ফাঁদে পড়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কোথাও কোথাও প্রশাসনের দাপট দেখিয়ে ও সুবিধা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে ওই সব সাংবাদিক নামধারী ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে। প্রাসঙ্গিক ক্রমে উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাই ও সীতাকুণ্ড উপজেলায় দায়িত্ব রত: জাতীয় দৈনিক পত্রিকা গুলোর প্রবীণ সাংবাদিকদের মধ্যে একাধিক জন জানান , ওই সব রাজনৈতিক দলীয় নেতাদের আশ্রয়ে থাকা সাংবাদিক নামধারীদের প্রকৃত সাংবাদিকরা বলতে গেলে একেবারেই কোণঠাসা হয়ে থাকতে হচ্ছে। সূত্র জানায়, বিভিন্ন গ্রামে মাদক ও নারীঘটিত ঘটনাকে পুঁজি করে বিশেষ সুবিধা নেয়ার উদ্দেশ্যে এক শ্রেণীর ব্যক্তিরা সাংবাদিকতায় আগ্রহী হয়ে উঠেছে বলে জানা গেছে। আর তার সদ্য ব্যবহার করতে বর্তমান সময়ে ব্যাঙের ছাতার মতো হাজারো নামখাওয়াস্তের দৈনিক পত্রিকা এবং অনলাইন পত্রিকা গুলো থেকে টাকা দিয়ে আইডি কার্ড বানানোর ও হিড়িক পড়ে গেছে। কেউ কেউ টাকা দিয়ে আবার তা বানিয়ে নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে নানাবিধ: অপকর্ম!
সম্প্রতি পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে ভুয়া পরিচয় দিয়ে বৈঠক করার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে, যার পেছনে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের একটি চক্র সক্রিয় বলে ও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে মীরসরাই উপজেলায় দায়িত্ব রত: দেশের প্রথমসারির জাতীয় দৈনিক পত্রিকার প্রতিনিধি/সাংবাদিকরা জানান, ‘সাংবাদিকতা’ একটি মহান পেশা। আর সেই পেশায় নিজেকে যুক্ত করেছিলাম। কিন্তু, এখন যত্রতত্র প্রেসকার্ড বিতরণ ও নামসর্বস্ব গণমাধ্যমের কারণে এই পেশাকে বিতর্কিত করা হচ্ছে। মূলধারার সাংবাদিক ও প্রশাসনের ঐক্যমত এখন অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
অনেকেই বলছেন-সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে ‘অনুমোদন বিহীন অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও আইপি টিভি কর্তৃপক্ষ থেকে কিছু ধান্দাবাজ ব্যাক্তি টাকা দিয়ে আইডি কার্ড বানিয়ে নানাবিধ: ভাবে ধান্দাবাজির কর্ম চালিয়ে প্রকৃত সাংবাদিকতা পেশার ওপর কুঠারাঘাত করে চলেছে।
আর ওই সব প্রতিনিধি/সাংবাদিক নামধারী ব্যাক্তিদের অপকর্মের কারণে প্রকৃত গণমাধ্যমের ওপর মানুষের আস্থা হারিয়ে খেলার উপক্রম হচ্ছে। কাজেই এখন থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। নয় তো আগামী নির্বাচনে ওই সব সাংবাদিক নামধারী কতিপয় রাজনৈতিক দলের ক্যাডার যে কোনো অঘটন ও ঘটিয়ে ফেলতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ভুয়া ও কার্ডধারী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সাংবাদিকতা পেশার মর্যাদাও ক্ষুণ্ন হবে।