সিলেট প্রতিনিধি :
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ আরফিন এলাকায় পুলিশ প্রশাসনের দায়ের করা অবৈধ ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে প্রতিবাদ সভা করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। এ সময় বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে নিরীহ সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে।
প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক আজির উদ্দিন তালুকদার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি হাজী শাহাব উদ্দিন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইসমাইল আলী, যুবদল নেতা মোজাফর, জাহের মির্ধা, সাবেক ওয়ার্ড মেম্বার শানুর আলী, আনোয়ার হোসেন আনাই, আইয়ুব আলী, আব্দুন নুর, বাবুল আহমদ, সেবুল মিয়া, সোনা মিয়া, ইসমাইল মিয়া, ইয়াসিন আলী, সমুজ আলী, রতন মিয়া, আকল মিয়া, চেরাগ আলী, মিজান, হাবিবুর রহমান, নজরুল ইসলাম মাস্টার, আবুল হাসনাত ও আলাউদ্দিনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এছাড়া ভুক্তভোগী অটোরিকশাচালক মাসুদ মিয়ার স্ত্রী-সন্তানসহ স্থানীয় বাসিন্দারা সভায় অংশ নেন।
সভায় ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, নিরপরাধ অটোরিকশাচালক মাসুদ মিয়াকে শাহ আরফিন পয়েন্ট থেকে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। তিনি নিম্ন আয়ের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় তার পরিবার বর্তমানে চরম সংকটে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগের দিন শুক্রবার সকাল ৭টায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদার ও পুলিশ-বিজিবির সমন্বয়ে অবৈধ পাথর উত্তোলনবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে প্রায় ৪০টি পাথরবাহী ট্রাক্টর আটক করা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, অনেক ক্ষেত্রে বাড়ি থেকে খালি ট্রাক্টরও জব্দ করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রকৃত অপরাধীদের পরিবর্তে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাজী শাহাব উদ্দিন বলেন, যতদিন পর্যন্ত সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তলনের সরকার কতৃক নির্দেশনা না আসবে ততোদিন যেনো কোনো ভাবে পাথর উত্তলন করা না হয়,এবং আরো বলেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সাথে কথা হলে আমাদের জানান পাথর কোয়ারি খুলে দিবেন বলে নিশ্চিত করেছেন, তারই সাথে এলাকার জনসাধারণ ধৈর্য ধারন করতে আহবান করেন। কিন্তু এখন আমরা দেখতেছি পুলিশ প্রশাসন প্রকৃত পাথর লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে নিরপরাধ মানুষের নামে মামলা দায়ের করছে। যাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা পায়, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় একটি সোর্স ও পুলিশের সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট শাহ আরফিন এলাকায় পাথর লুটপাটে জড়িত এবং নিজেদের চামড়া বাচাঁতে পুলিশের নিয়োগকৃত সোর্সের দেওয়া নামে মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে।এবং ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে বাঙ্কার ও শাহআরেফিনে অবৈধ ভাবে পাথর উত্তলন করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন অফিসার ইনচার্জ ওসি শফিকুল ইসলাম ও তার সোর্সরা।তিনি জানান, অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন চা দোকানদার, একজন মুদি ব্যবসায়ী এবং একজন অটোরিকশাচালক রয়েছেন, যারা পাথর উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত নন।
অন্যদিকে, একই অভিযানে শাহ আরফিন এলাকার কালা মিয়ার বাড়ি থেকে ৭৮ বছর ৭মাস বয়সী কালার জন্মদাত্রী বৃদ্ধা মা কে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশ প্রশাসন । ওই বৃদ্ধা অভিযোগ করেন, পুলিশ তার বাড়িতে ঢুকে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং তার ছেলেদের খোঁজ করে। পরে তাকে কোম্পানীগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরের দিন জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।
ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত নিরপরাধ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।