মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলেছেন, ইরানের নেতৃত্ব তাকে দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল রিপাবলিকান কংগ্রেসনাল কমিটির (এনআরসিসি) বার্ষিক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প এই দাবি করেন।
তিনি বলেন, আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই নিহত হওয়ার পর তেহরানের পক্ষ থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে তাকে এই পদের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
ট্রাম্প রসিকতা করে বলেন, ‘বিশ্বের কোনো দেশের প্রধানই ইরানের প্রধান হওয়ার মতো কম আকর্ষণীয় কাজ আর চাইবেন না। তারা আমাকে বলেছিল যে তারা আমাকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা বানাতে চায়, কিন্তু আমি বলেছি— না ধন্যবাদ, আমি এটি চাই না।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই দাবির বিপরীতে বাস্তব চিত্র হলো— আলী খামেনেইর মৃত্যুর পর ইরান ইতিমধ্যে তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনেইকে দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্থলাভিষিক্ত করেছে। তবে ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেছেন, তেহরান বর্তমানে পর্দার আড়ালে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের জন্য মরিয়া হয়ে আলোচনা করছে, যদিও জনসমক্ষে তারা তা অস্বীকার করছে।
ট্রাম্পের মতে, ইরানি কর্মকর্তারা চুক্তির জন্য অত্যন্ত আগ্রহী হলেও তারা নিজেদের দেশের জনগণের হাতে নিহত হওয়ার ভয়ে বা অভ্যুত্থানের আশঙ্কায় সেটি স্বীকার করতে পারছেন না। একই সঙ্গে তারা মার্কিন বাহিনীর হাতেও প্রাণ হারানোর ভয়ে তটস্থ রয়েছেন বলে ট্রাম্প দাবি করেন।
এদিকে হোয়াইট হাউস থেকেও দাবি করা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে। যদিও তেহরান প্রকাশ্যে আমেরিকার সব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সংঘাত নিরসনে নিজেদের নতুন কিছু কঠোর শর্তারোপ করেছে।