বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চাই : চিফ হুইপ চট্টগ্রাম বন্দর,৬ জাহাজ থেকে খালাস হচ্ছে জ্বালানি, পথে আরো ৪ জাহাজ ইরানের তোপে সুর নরম : আঞ্চলিক দেশগুলো তেহরানের শত্রু নয়, জানাল কাতার ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় কানে হেডফোন লাগিয়ে হাঁটছিলেন যুবক, ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু সরকারদলীয় এমপিদের সংসদীয় সভা শুরু ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে সরকারের নতুন নির্দেশনা ১৫ মার্চের মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের তথ্য চেয়েছে ইসি ফেনী ১ আসনের এমপি রফিকুল ইসলাম মজনুর এপিএস এর নিয়োগ পেলেন জাফর মজুমদার ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা থাকবে অপরিবর্তিত

১৪ মাস পর কালুরঘাট সেতুতে ঘুরলো যানবাহনের চাকা

সংস্কার শেষে যান চলাচলের জন্য প্রস্তুত ৯৩ বছরের পুরোনো চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতু। সংস্কার কাজ চলাকালে ১৪ মাসে এই সেতুতে যান চলাচল বন্ধ ছিল। তবে এই সময়ে সেতু দিয়ে কক্সবাজার-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
রোববার (২৭ অক্টোবর) সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ চট্টগ্রামের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের মানুষের দৈনিক দুর্ভোগের অবসান হয়েছে।

সেতু খুলে দেওয়া হলেও ভারি যানবাহন চলাচলে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে ৮ ফুটের বেশি উচ্চতার কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারবে না।
তবে সেতুটি একমুখী হওয়ায় যানচলাচলে ভোগান্তি থেকে মুক্তি চান বোয়ালখালীবাসী। তাদের দাবি, একনেকে (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) অনুমোদন পাওয়া নতুন সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হোক।
এদিকে, কালুরটঘাট সেতুতে সংস্কারের পর প্রথমবারের মতো ওয়াকওয়ে তৈরি করায় সবার মাঝে কৌতূহল বেড়েছে। সেতু দিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী ও পটিয়ার মানুষ চট্টগ্রাম শহরে আসা-যাওয়া করেন।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বলেন, কালুরঘাট সেতুর সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে। রোববার সকালে সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দিতে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল গাড়ি চলাচলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

কর্ণফুলি নদীর উপর স্থাপিত একটি পুরাতন রেল ও সড়ক সেতু যা একসময় চট্টগ্রাম বিভাগের দক্ষিণাংশকে দেশের অবশিষ্টাংশের সঙ্গে সংযোগ রক্ষার একমাত্র উপায় হিসেবে বিবেচিত ছিল। ১৯৩০ সালে কর্ণফুলি নদীর উপর দিয়ে জানালীহাট এবং গোমদন্ডী রেলস্টেশনের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে স্টিল কাঠামোর উপর নির্মিত একটি সাধারণ সেতু হিসেবে কালুরঘাট সেতুটি তৈরি করা হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য ২৩৯ মিটার।
চট্টগ্রাম ও দোহাজারী থানার মধ্যে ট্রেন চলাচলের উদ্দেশ্যে ১৯৩১ সালে সেতুটি উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের একত্রিশ বছর পর ১৯৬২ সালে জনগণের দুর্ভোগ বিবেচনা করে সেতুটিতে পাটাতন স্থাপন ও কার্পেটিং করে এটিকে রেলসেতুর পাশাপাশি একটি সড়ক সেতুতে রূপান্তর করা হয়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের জন্য সেতুতে বড় ধরনের সংস্কারকাজের উদ্যোগ নেয় রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল। কাজ শুরু হয় গত বছরের ১ আগস্ট। এ জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের সঙ্গে ৪৩ কোটি টাকার চুক্তি করে রেলওয়ে।

চুক্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, অর্থ ছাড়ে জটিলতা, বৃষ্টিসহ নানা প্রতিবন্ধকতায় সেতুর সংস্কারকাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারেনি। এরপর ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। তবে বন্ধ থাকে অন্যান্য যান চলাচল।

অবশেষে কারিগরি সব দিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আজ রোববার সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Like Our Page