বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০৬:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদে বিরোধী দলের ওয়াকআউট ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার হলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে প্রাণ গেছে বা আহত হয়েছে অন্তত ১১০০ শিশু : ইউনিসেফ ঈদে ১৭ মার্চ থেকে দুটি নৌরুটে লঞ্চ-স্টিমার সার্ভিস চালু ইরান বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পরিস্থিতিতে নেই : ক্রীড়ামন্ত্রী আঞ্চলিক যুদ্ধ শিগগিরই ‘নতুন পর্যায়ে’ প্রবেশ করবে, ইরানের হুঁশিয়ারি সংসদ অধিবেশনে ড. ইউনূস-জাইমাসহ আরো রয়েছেন যারা স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি আজ থেকে দেশে কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু: প্রধানমন্ত্রী ছুটির দিনে জ্বালানি তেল নিয়ে সরকারের জরুরি নির্দেশনা

১১৭ বছর পর উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে ,দামী হীরা ‘দরিয়া-ই-নূর’ !

ঢাকার নবাব পরিবারের কিংবদন্তি হীরা ‘দরিয়া-ই-নূর’, যা ‘কোহিনূরের সহোদর’ নামে পরিচিত। ১১৭ বছর পর দামী হীরা ‘দরিয়া-ই-নূর’ উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। তবে শেষ মুহূর্তে সোনালী ব্যাংকের ভল্ট খোলার কার্যক্রম হঠাৎ স্থগিত করায় আবারও অনিশ্চয়তায় পড়েছে এই অমূল্য রত্নটির অবস্থান।

সরকারি নথি অনুযায়ী, দরিয়া-ই-নূর বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের ভল্টে সংরক্ষিত রয়েছে। কিন্তু এত বছরেও কেউ সরাসরি এই হীরাটি দেখেননি—না ব্যাংক কর্মকর্তারা, না ভূমি সংস্কার বোর্ডের সংশ্লিষ্টরা। ফলে দেশের সবচেয়ে মূল্যবান রত্নটি আদৌ সেখানে আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন থেকেই গেছে।
ভূমি সংস্কার বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ১১ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ সচিব আব্দুর রশীদের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি সোনালী ব্যাংকের ভল্ট খুলে দরিয়া-ই-নূর উন্মুক্ত করার কথা ছিল। কিন্তু ৯ অক্টোবর হঠাৎ এক চিঠিতে কার্যক্রম স্থগিত করে ভূমি সংস্কার বোর্ড।

চিঠিতে বলা হয়,“অনিবার্য কারণবশত ১১ অক্টোবর নির্ধারিত কোর্ট অব ওয়ার্ডস, ঢাকা নওয়াব এস্টেটের অস্থাবর সম্পত্তি দরিয়া-ই-নূর ও অন্যান্য মূল্যবান গয়নাসামগ্রীর সেফ ডিপোজিটসমূহ উন্মুক্তকরণ কার্যক্রম নির্দেশক্রমে স্থগিত করা হলো।”

কী কারণে স্থগিত করা হলো, তা স্পষ্ট করে বলতে পারেননি কেউ। ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান এ জে এম সালাহউদ্দীন নাগরী বলেন,“কারণ আমি বলতে পারব না। এটা ওপর থেকে নেওয়া সিদ্ধান্ত। তবে আইনগত কোনো জটিলতা নেই।”

১৯০৮ সালে নবাব সলিমুল্লাহ ঋণগ্রস্ত হয়ে ‘দরিয়া-ই-নূর’সহ নবাব এস্টেট বন্ধক রাখেন ভারতের ইম্পেরিয়াল ব্যাংকে। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান হয়ে ব্যাংকটি বর্তমানে সোনালী ব্যাংকে রূপ নেয়, আর হীরাটি থেকে যায় তার ভল্টের গভীরে।

‘দরিয়া-ই-নূর’ হীরাটির ওজন প্রায় ২৬ ক্যারেট, আকারে টেবিলাকৃতি, আর বিশুদ্ধতা ও ঐতিহাসিক মূল্যের কারণে এটি বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত হীরা হিসেবে স্বীকৃত। এটি একসময় লাহোর দরবারে প্রদর্শিত হয়েছিল এবং পরে নবাব খাজা আলিমুল্লাহ ৭৫ হাজার রুপিতে নিলামে কিনে আনেন।

নবাব পরিবারের হাতে থাকাকালে হীরাটি কখনো পাগড়ির অলংকার, কখনো বাজুবন্ধে ব্যবহৃত হতো। ঐতিহাসিকভাবে এটি কোহিনূরের নিকট আত্মীয়—পাঞ্জাবের মহারাজা রণজিৎ সিং এই হীরাটি ধারণ করতেন, যা পরে তার জীবনে অমঙ্গল ডেকে আনে বলে কথিত আছে।

দীর্ঘ নীরবতার পর ভূমি মন্ত্রণালয় এ বছরের মে মাসে ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সভাপতি এবং ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যানকে সদস্যসচিব করে কমিটিতে জাতীয় জাদুঘর, সোনালী ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত আছেন।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Like Our Page