বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০৭:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদে বিরোধী দলের ওয়াকআউট ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার হলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে প্রাণ গেছে বা আহত হয়েছে অন্তত ১১০০ শিশু : ইউনিসেফ ঈদে ১৭ মার্চ থেকে দুটি নৌরুটে লঞ্চ-স্টিমার সার্ভিস চালু ইরান বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পরিস্থিতিতে নেই : ক্রীড়ামন্ত্রী আঞ্চলিক যুদ্ধ শিগগিরই ‘নতুন পর্যায়ে’ প্রবেশ করবে, ইরানের হুঁশিয়ারি সংসদ অধিবেশনে ড. ইউনূস-জাইমাসহ আরো রয়েছেন যারা স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি আজ থেকে দেশে কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু: প্রধানমন্ত্রী ছুটির দিনে জ্বালানি তেল নিয়ে সরকারের জরুরি নির্দেশনা

‘আমরা কারাগারে ছিলাম না, এক কসাইখানায়’: মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনিরা

ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনিরা তাদের বন্দিজীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। আল–জাজিরার সঙ্গে কথা বলার সময় তারা জানিয়েছেন, কারাগারের পরিবেশ ছিল অমানবিক এবং খাবারের ব্যবস্থা ছিল নিকৃষ্ট।

মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে একজন আবদাল্লাহ আবু রাফি বলেন, “আমরা কারাগারে ছিলাম না, এক কসাইখানায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওই কসাইখানার নাম ছিল ওফের কারাগার। অনেক তরুণ এখনও সেখানে বন্দি। কারাগারের অবস্থা ভয়ংকর—কোনো তোশক নেই, সব সময় তোশকগুলো নিয়ে যায়, খাবারের মান খুব খারাপ, সবকিছুই কঠিন।”
অন্য মুক্তিপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি ইয়াসিন আবু বলেন, “খুব, খুব খারাপ। খাবার, নির্যাতন, প্রহার—সবকিছুই ভয়ানক। চার দিন ধরে আমি কিছুই খাইনি। এখানে (খান ইউনিসে) এসে আমাকে দুটি মিষ্টি দেওয়া হয়েছে, সেগুলোই খেয়েছি।”

ইসরায়েল সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ২৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দিয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকে আজীবন বা দীর্ঘমেয়াদি সাজা ভোগ করছিলেন। গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আরও প্রায় ১ হাজার ৭১৮ জন ফিলিস্তিনি বন্দীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ এই বন্দীদের ‘বলপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তি’ হিসেবে বিবেচনা করেছে।

মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে আছেন সাইদ শুবাইরও। তিনি জানান, “এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। কারাগারের বাইরে মুক্ত আকাশে সূর্য দেখা—এটা এক অবর্ণনীয় অভিজ্ঞতা। আমার হাত এখন শৃঙ্খলমুক্ত। স্বাধীনতার কোনো মূল্য হয় না; এটা অমূল্য।”

মুক্তিপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনিরা কারাগারের নির্যাতন এবং অমানবিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, যে কোনো বন্দির জন্য স্বাধীনতা এবং নিরাপদ পরিবেশ অপরিহার্য।

উল্লেখ্য, হামাসের হাতে থাকা জীবিত ২০ জিম্মিকে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা রেডক্রসের মাধ্যমে ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর পরপরই ইসরায়েল ৩ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলায় ইসরায়েলে নিহত হয় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন, এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয় গাজায়। সেই হামলার পর থেকেই গাজায় নির্বিচার অভিযান চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। প্রায় দুই বছরে নিহত হন ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Like Our Page