বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রাজেন্দ্রপুরে নেসলে কারখানার ব্যবসা নিয়ে দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ রাষ্ট্র পরিকল্পনার প্রথম পদক্ষেপ ‘ফ্যামিলি কার্ড’, আরো সুফলের অপেক্ষা, চট্টগ্রামে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলে বাধা দেবে না ইরান মিরপুরে বাণিজ্যিক ভবনে আগুন, হাসপাতালে দুজনের মৃত্যু শ্রীপুরে সাংবাদিকের নামে দেয়া মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন রাজধানীতে ৪৭টি মাথার খুলি, হাড়-কঙ্কাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪ চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে মাদক নির্মুলে সোচ্চার ভূমিকা রেখে চলেছেন সেচ্ছাসেবক দল নেতা আবদুল গনি শাহিন চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ২০ মিরপুর-২ এ বহুতল ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৫ ইউনিট সৌদিতে মিসাইল হামলায় কিশোরগঞ্জের জামায়াতের কর্মী নিহত

উচ্চাভিলাষী এনবিআর কর্মকর্তার বেতনের আড়ালে সম্পদের পাহাড়

দেওয়ান শামীম আল মামুন :

রাজশাহীর তালাইমারির এক প্রত্যন্ত এলাকা থেকে উঠে আসা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কাজী মোস্তাফিজুর রহমান (দুলাল)-এর জীবনযাপন এখন সাধারণের প্রশ্নচিহ্নের মুখে। সুগার মিলের সাধারণ চাকরিজীবী থেকে কাস্টমস ক্যাডার হয়ে এনবিআর সদস্য পদে আসীন এই কর্মকর্তার স্বল্প কর্মজীবনেই অর্জিত বিপুল স্থাবর সম্পত্তি তাঁর বৈধ আয়ের সঙ্গে আকাশ-পাতাল অসঙ্গতিপূর্ণ। অভিযোগ উঠেছে, ক্ষমতা অপব্যবহারের মাধ্যমে তিনি সম্পদের এক ‘অশুভ সাম্রাজ্য’ গড়ে তুলেছেন।

বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, এনবিআর সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান তাঁর ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে একের পর এক মূল্যবান সম্পত্তি সংগ্রহ করেছেন:

রাজধানীর অভিজাত এলাকা মোহাম্মদপুর, ইকবাল রোডে (ফ্ল্যাট নং ৩/১৭) তিনি একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের মালিক।গাজীপুরের পশ্চিম বিলাসপুর-গাজীপুরে ১০ কাঠার ওপর নির্মিত হয়েছে তাঁর ৪ তলা আলিশান বাড়ি। এই বাড়ির নিচতলা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ভাড়া দিয়ে নিয়মিত আয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর নামে থাকা প্লট ও জমির পরিমাণ রীতিমতো বিস্ময়কর। এর মধ্যে রয়েছে:সালনা, দেশিপাড়ায় বাড়ির সামনে ১০ কাঠা; ১৭ কাঠাসহ একাধিক প্লট।গাজীপুর তাজ উদ্দিন মেডিকেলের পাশে সাড়ে ৬ বিঘা মূল্যবান জমি।জয়দেবপুর, সদর হাসপাতাল রোড, দক্ষিণ ছায়া বিথি, ছায়া কুঞ্জসহ গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চমূল্যের বাণিজ্যিক এলাকায় কেনা জমি।রাজধানী সংলগ্ন এই উদীয়মান এলাকায় তাঁর দখলে রয়েছে বেশ কয়েকটি প্লট।

মোস্তাফিজুর রহমানের সম্পত্তি দ্রুত বৃদ্ধির রহস্য তাঁর পারিবারিক ব্যবসার দিকে ইঙ্গিত করছে। তাঁর ভাইদের মধ্যে একজন, কাজী শাহিন, জমি ও নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবসায় জড়িত থেকে এসব সম্পত্তি দেখাশোনা করেন। কিন্তু গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আরেক ভাই কাজী মিঠু-কে ঘিরে। দুবাই প্রবাসী এই ভাই হুন্ডি এবং মানি ট্রান্সফারের ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং একটি বায়োজিন প্রতিষ্ঠানের আড়ালে অর্থ পাচারের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ। এই ‘কালো টাকা’ কি তবে সরকারি কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় দেশে ফিরে আসছে? প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি বেতনের সামান্য আয়ের সঙ্গে এই ‘পারিবারিক ব্যবসার’ বিপুল সম্পদের উৎস কোথায়?

আর্মীর নায়েকের সন্তান কাজী মোস্তাফিজুর রহমান প্রথমে সুগার মিলে চাকরি করেন। এরপর বিসিএস ট্রেড ক্যাডার থেকে ‘তদবির’ করে কাস্টমস ক্যাডারে প্রবেশ করেন। তাঁর কর্মজীবনের প্রায় পুরোটাই কেটেছে কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের স্পর্শকাতর পদে, যা দুর্নীতিপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। তিনি ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেট, কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, রিক্স ম্যানেজমেন্ট কমিশনারেট এবং চিটাগাং পোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব পদে থাকাকালীন তাঁর সম্পত্তির এই অস্বাভাবিক ও লাগামহীন বৃদ্ধি ইঙ্গিত দেয় যে, ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমেই তিনি এই ‘সম্পদের পাহাড়’ গড়ে তুলেছেন।

যেখানে তাঁর স্ত্রী আলেয়া জিয়াসমিন এবং সন্তানরা (নিশা নামী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী) বিলাসী জীবন যাপন করছেন, সেখানে তাঁর ভাগিনা সৃষ্টি এবং ভাই শাহিন এই বিশাল সাম্রাজ্যের তদারকিতে নিয়োজিত। —দেশের আইন ও নৈতিকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জনগণের অর্থে পরিচালিত এমন উচ্চপদে আসীন কোনো কর্মকর্তার অস্বাভাবিক সম্পদের উৎস কি??


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Like Our Page