পথশিশুদের সঙ্গে লিও ক্লাব অব ঢাকার ইফতার ও সেহরি আয়োজন।
সমাজসেবামূলক সংগঠন লিও ক্লাব অব ঢাকা পবিত্র রমজান উপলক্ষে পথশিশুদের সঙ্গে ইফতার ও সেহরির আয়োজন করেছে। রাজধানীর গুলিস্তান সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৭০ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে এ আয়োজন করা হয়।
জানা যায়, “পথের স্কুল” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিশুদের সঙ্গে একসঙ্গে ইফতার করেন লিও ক্লাব অব ঢাকার সদস্যরা। পাশাপাশি তাদের জন্য সেহরির ব্যবস্থাও করা হয়। লিও ক্লাব অব ঢাকার সদস্যরা এই আয়োজনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করেন এবং শিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ করে তাদের সঙ্গে সময় কাটান।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে “পথের স্কুল”-এর শিক্ষক মোসা. সালমা আক্তার বলেন, রমজানের প্রকৃত শিক্ষা হলো সহমর্মিতা ও মানবিকতা। সেই লক্ষ্য থেকেই পথশিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জন্য ইফতার ও সেহরির আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে লিও ক্লাব অব ঢাকার পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের ইমিডিয়েট পাস্ট প্রেসিডেন্ট লিও মো. এলাহী মন্ডল, বর্তমান সভাপতি লিও মোসা. আকিদা রিনি, প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট লিও মো. মাইনুদ্দিন, দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট লিও রিক্তা মনি, টেমার লিও মো. আজিজুল হক আজিজসহ ক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা।
লিও ক্লাব অব ঢাকার সভাপতি লিও মোসা. আকিদা রিনি বলেন, সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
ইমিডিয়েট পাস্ট প্রেসিডেন্ট লিও মো. এলাহী মন্ডল বলেন, সমাজের পথশিশুদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া আমাদের মানবিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে তাদের জন্য আশ্রয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি।
টেমার লিও আজিজুল হক আজিজ বলেন, পথশিশুদের শিক্ষা, খাবার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমাজের সবাইকে একযোগে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। সামান্য সহায়তাও একটি পথশিশুর জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
এই আয়োজন পেয়ে পথশিশুরাও আনন্দ প্রকাশ করে এবং আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়। পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে এ ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান আয়োজকরা।
উল্লেখ্য, লিও ক্লাব অব ঢাকা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। সংগঠনটির উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, রক্তদান, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প (দাঁত পরীক্ষা, ডায়াবেটিস পরীক্ষা, রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও সাধারণ চিকিৎসা), স্কুল শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রম, পথশিশুদের শিক্ষা ও খাদ্য সহায়তা, বস্ত্র বিতরণ, ভিটামিন ও কৃমিনাশক টিকা প্রদান, সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী সভা-সেমিনার এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ত্রাণ সহায়তা।
লিও ক্লাব একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যুব সংগঠন। ১৯৫৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে “এভিংটন স্কুল লিও ক্লাব” প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্বের প্রথম লিও ক্লাবের যাত্রা শুরু হয়। বাংলাদেশে লিও ক্লাবের কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৭৩ সালে “কমলাপুর লিও ক্লাব” প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।
লিও ক্লাবের মূল মটো হলো—Leadership, Experience এবং Opportunity। সংগঠনটির সদস্যরা নিজেদের নামের আগে “লিও” শব্দটি ব্যবহার করেন, যা আন্তর্জাতিক যুব সংগঠনটির সদস্য পরিচয় বহন করে।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে লিও ক্লাব অব ঢাকা কাজ করে যাবে।
মো: মোস্তাফিজুর রহমান রোমেল, বিশেষ প্রতিনিধি