এম, এ কাশেম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়িতে কৃষি জমি থেকে মাটি কাটার ফলে সৃষ্ট গর্তে জমে থাকা পানিতে পড়ে দুই শিশু কন্যা নিহত হয়েছে! ৫ এপ্রিল (রবিবার) সকালে ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের করিম বাপের বাড়িতে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় অধিবাসীরা জানায়।
নিহত ২ শিশু কন্যা হলো- একই এলাকার হাবিবের মেয়ে সাকি মনি (৮) ও জাকির হোসেনের মেয়ে সানজিদা (৯)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন আগে ওই কৃষি জমি থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে ইটভাটা বা অন্য কাজের জন্য গভীর গর্ত করে মাটি কেটে নেয়া হয়। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে সেই গর্তে পানি জমে গভীর ডোবার সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিন সকালে বাড়ির পাশে খেলার এক পর্যায়ে শিশু দু’টি অসাবধানতাবশত: ওই গর্তের পানিতে পড়ে তলিয়ে যায়।
অনেকক্ষণ তাদের দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে গর্তের পানিতে তাদের মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজনরা উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত: চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিয়মবহির্ভূত ভাবে কৃষি জমি থেকে গভীর গর্ত করে মাটি কাটার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। মাটি কাটার পর গর্তগুলো ভরাট না করায় বা চলাচলের পথে নিরাপত্তা নিশ্চিত না করায় এ ধরনের প্রাণহানি বাড়ছে।
স্থানীয় থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হারুয়ালছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী স্থানীয় সাংবাদিকের কে বলেন- যেনতেন মাটি কাটার ফলে আজ এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি বলেন- স্থানীয় ছরোয়ার নামের এক ব্যক্তি মাটি কেটে এ গর্ত সৃষ্টি করেছে।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত ওই ছরোয়ার বলেন- আমি মাটির ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছি। মাটিগুলো কাটার সাথে জড়িত স্থানীয় পারভেজ, শুক্কুর ও মিটু।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন- “ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং হৃদয়বিদারক। কৃষি জমি থেকে অবৈধ ভাবে বা নিয়মবহির্ভূত ভাবে গভীর গর্ত করে মাটি কাটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “যারা এভাবে ফসলি জমি নষ্ট করে মাটি কাটছে এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে আমরা অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।”