রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে বই প্রকাশ জানুয়ারিতে বিজিবির অভিযানে ১৩১ কোটি টাকার চোরাচালান জব্দ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন নাহিদ ইসলাম ধানমন্ডিতে জোড়া খুনের মামলার রায় ১৭ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরে আজ থেকে আবার অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি: কার্যক্রমে অচলাবস্থা চট্টগ্রামে ভোটের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪০ হাজার সদস্য মাঠে সুন্দরগঞ্জে ব্রিজ ভেঙে বাড়িতে নিলেন চেয়ারম্যান ইন্ডাস্ট্রি ইউনিভার্সিটি হলে শাকিব প্রিন্সিপাল: চিত্রনায়িকা বুবলী কারাদণ্ডের বদলে জরিমানার বিধান : ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি জরুরি সভায় যোগ দিতে পাকিস্তান গেলেন বিসিবি সভাপতি

চট্টগ্রাম বন্দরে আজ থেকে আবার অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি: কার্যক্রমে অচলাবস্থা

এম, এ কাশেম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :

চট্টগ্রাম বন্দরে আজ থেকে আবার অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি: ফলে, সব রকম কার্যক্রমে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ দেয়ার প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারীরা তাদের আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। শ্রমিক কর্মচারীদের আন্দোলন সত্ত্বেও সরকারের তরফ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা আজোতক পাওয়া যায়নি। এর- ই মধ্যে শ্রমিক কর্মচারীরা বন্দর ছাড়িয়ে এবার বহির্নোঙরে ও কাজ বন্ধ করার ঘোষণা। এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ না দেয়ার সরকারি ঘোষণা সহ ৪ দাবি বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের এ দাবির প্রতি অনেকেই সমর্থন জানিয়েছেন। এমনোতর: অবস্থায় চরম শঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ী-শিল্পপতি সহ বন্দর ব্যবহারকারীরা।
সূত্র জানায়, দুদিন চালু থাকার পর আজ সকাল থেকে আবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর। এবার বহির্নোঙরেও কাজ বন্ধ করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ না দেওয়ার সুস্পষ্ট সরকারি ঘোষণাসহ চার দাবিতে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ আজ রোববার সকাল ৮টা থেকে পুনরায় চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি আহ্বান করেছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের দুই সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহিম খোকন লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। অপরদিকে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের কর্মসূচির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের এবারের কর্মসূচি কার্যকর হলে পুরো বন্দর অচল হয়ে পড়বে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। নতুন করে বন্দর অচলের কর্মসূচিতে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিসহ বন্দর ব্যবহারকারীদের মাঝে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে গত শনিবার থেকে ৮ ঘণ্টা করে তিন দিন এবং মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করে আসছিল বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেনার পরিবহন এবং জাহাজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। তবে বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর বিকালে লাগাতার কর্মবিরতি দুদিনের জন্য স্থগিত করেন সংগঠনটির নেতারা। শ্রমিক নেতারা নৌ উপদেষ্টার সঙ্গে আলাপকালে এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বাতিলের সুস্পষ্ট ঘোষণা এবং শ্রমিক–কর্মচারীদের বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলেন। নৌ উপদেষ্টাকে তারা বলেছিলেন, দাবি মানা বা স্পষ্ট ঘোষণা দেয়া না হলে রোববার সকাল থেকে আবার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্দরে কর্মবিরতি পালন করা হবে।
এদিকে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আন্দোলন স্থগিত করার পরপর আন্দোলনরত ১৫ জন কর্মচারীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন জানায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানাতে অনুরোধ করা হয়। এ খবর জানতে পেরে আন্দোলনকারীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন।
গতকাল চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, বৃহস্পতিবার উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে পূর্ণাঙ্গ আশ্বাস না পেলেও ব্যবসায়ীদের ক্ষতি ও রোজার পণ্য খালাসের কথা বিবেচনা করে আমরা লাগাতার কর্মবিরতি কর্মসূচি স্থগিত করেছিলাম। তবে বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আন্দোলনকারীদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ চিঠি দেয়। এই পদক্ষেপ নিয়ে বন্দর চেয়ারম্যান (রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান) পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছেন। এই ধরনের পরিস্থিতিতে আবারো লাগাতার কর্মসূচিতে যাওয়া ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।
সংবাদ সম্মেলনে সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হচ্ছে, এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ না দেয়ার ঘোষণা দিতে হবে সরকারকে। এছাড়া ‘চট্টগ্রাম বন্দরের সংকটের প্রধান কারণ’ বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানকে বন্দরের চেয়ারম্যান পদ থেকে প্রত্যাহার করে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা, বিগত আন্দোলনে যেসব কর্মচারীর বিরুদ্ধে বদলি, চার্জশিট, সাময়িক বরখাস্ত, পদাবনতিসহ নানাবিধ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে তা বাতিল করে প্রত্যেক কর্মচারীকে চট্টগ্রাম বন্দরের স্ব–স্ব পদে পুনর্বহাল করতে হবে। আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে কোনোরূপ মামলাসহ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগ্রাম পরিষদের নেতা ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি মোহাম্মদ হারুণ, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, কার্যকরী সভাপতি আবুল কাসেম, মার্চেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের সমন্বয়ক ইয়াসিন রেজা রাজু, জাহিদ হোসেন, মোহাম্মদ হারুন, উইন্সম্যান সমিতির ইমাম হোসেন খোকন, শরীফ হোসেন ভুট্টো প্রমুখ।
উল্লেখ্য, দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দর দিয়ে সমুদ্রপথে পরিবাহিত আমদানি–রপ্তানি পণ্যের ৭৮ শতাংশ পরিবহন হয়। কন্টেনারজাত পণ্যের প্রায় পুরোটা পরিবহন হয় এই বন্দর দিয়ে। বন্দর বন্ধ হলে কন্টেনারে রপ্তানি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। কন্টেনারে বোঝাই করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকৃত শিল্পের কাঁচামাল খালাসও বন্ধ হয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর জানান, এবারের ধর্মঘটে জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল, প্রশাসনিক ভবনের পাশাপাশি বহির্নোঙরেও (আউটারে লাইটারিং) অপারেশনাল কাজ বন্ধ থাকবে। গেল সপ্তাহের আন্দোলনে বন্দর অচল থাকলেও বহির্নোঙরে স্বাভাবিক কার্যক্রম চলেছিল। শ্রমিক কর্মচারীদের কর্মসূচি কার্যকর হলে আজ সকাল থেকে বহির্নোঙরের কার্যক্রমও বন্ধ থাকবে।
চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশ করতে পারে না এমন বড় মাদার ভ্যাসেলগুলো বহির্নোঙরে অবস্থান নিয়ে লাইটারেজ জাহাজে পণ্য খালাস করে। এসব পণ্য দেশের অন্তত ২৫টি অঞ্চলে পরিবাহিত হয়। বহির্নোঙরে অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ হলে সারা দেশের সাপ্লাই চেইন পুরোপুরি ভেঙে পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Like Our Page