এম, এ কাশেম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
দেশের প্রধান চালিকাশক্তি বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সর্বোত্র ভুয়া সাংবাদিকদের অবাধ বিচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর তাদের চরম দৌরাত্ম্যপনায় কোণঠাসা হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে দেশের নামিদামি দৈনিক পত্রিকা ও বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল এর প্রকৃত সাংবাদিকরা। চট্টগ্রামের প্রবেশ্বধার উপজেলা মীরসরাই। এখান থেকে শুরু পুরো চট্টগ্রামে ওই সব ভুয়া সাংবাদিকদের অপ সাংবাদিকতা।
প্রাসঙ্গিক ক্রমে বলাবাহুল্য যে, এ প্রতিবেদক ও একজন দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক দল বিএনপি’র একমাত্র মুখোপত্র দৈনিক ‘দিনকাল’ পত্রিকায় নিজস্ব প্রতিনিধির দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন মীরসরাই-উত্তর চট্টগ্রামে।
এ ছাড়া- তিনি দায়িত্ব রত: রয়েছেন দেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল এ।
কিন্তু, তিনি পত্রিকা কর্তৃপক্ষ থেকে টাকার বিনিময়ে আইডি কার্ড সংগ্রহ করা তো দুরের কথা বরং পত্রিকা কর্তৃপক্ষ থেকে সম্মানি ও পেয়ে থাকেন।
সুতরাং, চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলা যেতে পারে- এখানে যে বা যারা আগেকার সময় বিশেষ করে গত ৫ আগষ্টের আগে কোনো না কোনো পত্রিকা থেকে আইডি কার্ড প্রাপ্ত হয়ে সাংবাদিকতা পেশায় রয়েছেন তাদের কথা আপাতত: বাদ দিয়ে ৫ আগষ্টের পর থেকে যারা বিভিন্ন পত্রিকা থেকে আইডি কার্ড নিয়ে তা গলায় ঝুলিয়ে সাংবাদিকতার নামে অপ সাংবাদিকতা চালানোর প্রয়াস পাচ্ছে তাদের মধ্যে কে, কে আছে টাকা ছাড়া ওই সব নামে বে নামের পত্রিকা কর্তৃপক্ষ থেকে আইডি কার্ড পেয়েছে? এ ছাড়া তারা পত্রিকা কর্তৃপক্ষ থেকে মাস শেষে এক টাকা ও কি পায়? তাহলে তাদের আরাম আয়েসি চলাফেরা এবং জীবন যাপনের উৎস কি? এর সঠিক খুঁজে বের করার দায়িত্ব কেবলই সাংবাদিক নেতাদের ওপর বর্তায়। অথচ, তারা রহস্য জনক ভাবে তা এড়িয়ে যাচ্ছে!
সূত্র মতে-ইতোপূর্বে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া থেকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য সাংবাদিক হিসেবে কার্ড পেয়ে যারা সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন তাদেরকে আকস্মিক ভাবে বাদ দিয়ে দু’একটি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া কর্তৃপক্ষ নতুন করে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়ার দুরভিসন্ধিতে মেতে উঠেছে বলে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানা গেছে।
এর পর যাদেরকে নিয়োগ দেয়া হবে তাদের থেকে টাকা নেয়া হচ্ছে কি না তা ও খেয়াল রাখতে হবে প্রকৃত সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিতদের। যাতে করে টাকার বিনিময়ে অ সাংবাদিক কোনো ব্যাক্তিরা কার্ড নিয়ে অপ সাংবাদিকতা করতে না পারে।
আর যে বা যারা টাকা দিয়ে আইডি কার্ড নিয়ে নিজেদের কে সাংবাদিক বানিয়ে যেখানেই সাংবাদিকতার নামে অপ সাংবাদিকতা করার চেষ্টা করবে তাদেরকে জুতা পেটা করার জন্য স্ব স্ব স্থানে দায়িত্ব রত: টাকা বিহীন পত্রিকা কর্তৃপক্ষ থেকে পাওয়া কার্ডধারী আসল সাংবাদিকদের রেডি থাকতে হবে।
এমনিতেই দেশের রাজধানী ঢাকা এবং বিভিন্ন বিভাগীয় জেলা ও শহর থেকে এমন কি বিভিন্ন উপজেলা থেকে ও ধরা বাধাহীনভাবে ব্যাঙের ছাতার মতো হু হু করে হাজার হাজার নামে বেনামে দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক এবং মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করে টাকার বিনিময়ে যার তার হাতে সাংবাদিকতার মতো মহান পেশার কার্ড দিয়ে সাংবাদিকতা পেশার ওপর কুঠারাঘাত করে চলছে। এ ছাড়া ও বেশুমার অনলাইন নিউজ পোর্টালের কথা তো বলাই বাহুল্য। এর পর রয়েছে বিভিন্ন ভাবে প্রকাশ পাওয়া ইউটিউব চ্যানেল ও আইপি টিভি চ্যানেল।
আর বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকারক হচ্ছে- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুক। রাজনৈতিক দল সহ অন্যান্য যে কোনো কিছু ফেইজবুকে যে কোনো ভাবে দু’চার কলম লিখে ছবি সহ পোষ্ট দিয়ে দিতে পারলেই সে নিজেকে বড়ো সাংবাদিক মনে করে প্রভাব বিস্তার করে চলতে দেখা যায়। এর পিছনে কাজ করে জ্ঞান বুদ্ধিহীন গুটি কতেক রাজনৈতিক দলীয় নেতা কর্মীরা।
সব মিলিয়ে সাংবাদিক নেতাদের অলসতা এবং দায়িত্ব জ্ঞাননহীনতাই এর জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ি বলে মনে করা যেতে পারে।
প্রথমেই দেশের রাজধানী ঢাকা থেকে প্রকাশ পাওয়া ওই সব আগাছা পরগাছার মতো পত্রিকা এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও আইপি টিভি চ্যানেল এর দিকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে সাংবাদিক নেতাদের। তার পর তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে হবে।
এর বাইরে জেলা ও উপজেলায় থাকা সাংবাদিক নেতাদেরকে ও ওই সব বিষয়ে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে রাখতে হবে যাতে তাদের কঠোরতার মাধ্যমে কোনো এলাকাতেই অপ সাংবাদিকতা চলতে না পারে।
আর যদি তা কার্যকর না হয় তাহলে সরাসরি সরকার ও প্রশাসনকে তা দমনে হস্তক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে!
সর্বোপরি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় রেখে হস্তক্ষেপ করনের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে দেশকে মুক্ত করতে হবে অপ সাংবাদিকতার কবল থেকে এমনিটি-আশা করছেন দেশের এ প্রান্ত থেকে সে প্রান্তের সবাই (প্রায়) ।