এম, এ কাশেম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
চট্টগ্রামে আগ্নেয়াস্ত্র বহনকারী এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দেখা মাত্র-ই ‘বার্স্টফায়ার’ করে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ। মঙ্গলবার দুপুরে ওয়ারল্যাস সেটে তিনি সিএমপির সব সদস্য, টহল ও থানা পুলিশকে একযোগে মৌখিক এ নির্দেশনা দেন। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত কয়েক দফায় তিনি একই নির্দেশনা দেন বলে নিশ্চিত করেছে সিএমপির একাধিক সূত্র। সিএমপি কমিশনার বলেছেন, শটগান হবে না, চায়না রাইফেলও বাদ, এখন এসএমজি বার্স্টফায়ার মুডে থাকবে। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দেখামাত্র বার্স্টফায়ারে হত্যা করতে হবে।
বেতারবার্তার বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, এটা পুলিশের অভ্যন্তরীণ একটি মেসেজ। এটা বাইরে কীভাবে গেল তা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। ওয়্যারলেসে দেয়া বার্তাটির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, আমি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দেখামাত্র বার্স্টফায়ারে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছি। কেনো দিয়েছি? আমি আমার এই নগরীর সু’নাগরিকদেরকে সব ধরনের অপরাধী, সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের কাছ থেকে নিরাপত্তা দিতে চাই। এজন্য ১০, ২০ কিংবা ৫০ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে হত্যা করলে অসুবিধা হবে না।
তিনি বলেন, আমরা নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে চাই। এই নিরাপত্তার জন্য যারা হুমকি তাদের এই নগরী কিংবা পৃথিবীতে বেঁচে থাকার কি খুব বেশি দরকার আছে? তিনি বলেন, অনেকেই এটাকে ব্রাশফায়ার বলে ভুল করছেন। আসলে আমি বার্স্টফায়ারের কথা বলেছি, যেখানে একইসাথে কয়েক রাউন্ড গুলি করা হয়।
এই নির্দেশনা আগেও ছিলো বলে উল্লেখ করে সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন, আগে সিঙ্গেল রাউন্ড গুলি করার অর্ডার ছিলো। এখন একই সাথে একাধিক রাউন্ড গুলি করার অর্ডার দিয়েছি। এটা আইন মেনে দেয়া হয়েছে এবং পুলিশের আত্মরক্ষার অধিকার আইনে সুরক্ষা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমার এলাকায় ঢুকে প্রকাশ্য দিবালোকে একটা খুন করে গেলো। এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে তারা যেনো আর সাহস না পায়। এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে চট্টগ্রাম নগরে ঢোকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। তারা যেনো স্বপ্নেও এটি কল্পনা করতে না পারে যে, এখানে নিরাপদে অপরাধ করে সটকে পড়া যাবে। সেজন্যই এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
সিএমপি কমিশনার বলেন, আওয়ামী লীগের যারা ঝটিকা মিছিল করে এটা তাদের ওপর প্রয়োগ হবে না। তাদের গ্রেপ্তার করবো, আদালতে সোপর্দ করবো। আওয়ামী লীগের যারা নিরস্ত্র লোক, তাদের বার্স্টফায়ার করতে বলিনি। এটার যেনো অপব্যাখ্যা না হয়। তিনি বলেন, সাজ্জাদ বাহিনী, ইয়াসিন বাহিনী, বার্মা সাইফুল ইত্যাদি যারা আছে, যারা কথায় কথায় মানুষ মারে তাদের জন্য পুলিশের অস্ত্র বার্স্টফায়ার মুডে থাকবে।
ওয়্যারলেস বার্তায় যে-কোনো পরিস্থিতি এবং নাশকতা এড়াতে টহল টিমগুলোকে এসএমজি ছাড়াও শিশা শটগান, দু’টি গ্যাস গান এবং টিম ইনচার্জকে নাইন এমএম পিস্তল বহন করতে বলা হয়েছে। এছাড়া স্থায়ী চেকপোস্ট সাতটি থেকে বাড়িয়ে ১৩টি করতে আদেশ দিয়েছেন কমিশনার।
বার্তায় পুলিশ সদস্যদের দণ্ডবিধি ৯৬ থেকে ১০৬ পর্যন্ত, আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার সব পুলিশ অফিসারের আছে বলে মনে করিয়ে দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার এবং সব দায় কমিশনার বহন করবেন বলে পুলিশ সদস্যদের আশ্বস্ত করেছেন।