এম, এ কাশেম, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম :
উত্তর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ১নং সৈয়দপুর ইউনিয়নের গ্রামবাসী মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে জামায়াত নেতা-কর্মীদের ধাওয়া করেছেন বলে প্রাপ্ত সংবাদে প্রকাশ। ওই জনরোষের শিকার হওয়া নেতা-কর্মীদের মধ্যে কুমিরা ইউনিয়ন জামায়াত নেতা জসিম উদ্দিন ও রায়হান উদ্দিন। তাদের মধ্যে জসিম উদ্দিন জামায়াতের মনোনয়ন নিয়ে গতবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করেছিলেন এবং রায়হান উদ্দিন সীতাকুণ্ড পৌরসভার সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার।
গতকাল সোমবার দুপুরে সীতাকুণ্ড উপজেলার ১নং সৈয়দপুর ইউনিয়নের পশ্চিম সৈয়দপুর গ্রামে এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটার খবর পাওয়া গেছে।
সূত্র জানায়, পশ্চিম সৈয়দপুর গ্রামস্থ সমুদ্রের উপকূলে আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসনামলের দন্ডমুন্ডের কর্তা খ্যাত আ’লীগ নেতা ও গত ভোট বিহীন নির্বাচনে এমপি বনে যাওয়া এস এম আল মামুনের চাচাতো ভাই সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর হোসেনের ক্রয় করা ১০০ একর কৃষি জমি সাগর থেকে বালু উত্তোলন করে ভরাট করতে গিয়ে গ্রামবাসীর রোষানলে পড়েছেন উক্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতারা।
তাদের এহেন হীন কর্মে অতিষ্ঠ হওয়া স্থানীয় গ্রামের কয়েকজন এলাকার
মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসীদের নির্দিষ্ট স্থানে একত্রিত হওয়ার অনুরোধ জানালে তাৎক্ষণিক প্রায় ৪-৫ শতো গ্রামবাসী সেথায় গিয়ে একত্রিত হন। এবং উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত জামায়াতে ইসলামীর উল্লেখিত নেতাদের ধাওয়া করে। গ্রামবাসীদের ধাওয়া খেয়ে জামায়াত নেতা জসিম উদ্দিন ও সাবেক জামায়াতি কমিশনার রায়হান উদ্দিন সহ তাদের সাথে থাকা অন্যান্য জামায়াত নেতারা ও পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। গ্রামবাসীর ধাওয়া খেয়ে পালানোর সময় কয়েকজন জামায়াত নেতা আহত হয়েছেন বলে জানা সূত্র থেকে জানা গেছে।
তবে, স্থানীয় দু’একজন ব্যাক্তি জামায়াতে ইসলামীর নেতা পরিচয় দিয়ে ওই রকম ঘটানোর দায়ভার জামায়াতে ইসলামী বহন করবে না বলে চট্টগ্রাম জেলা জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্ববান নেতারা সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত নেতা জসিম উদ্দিন ও সাবেক কমিশনার রায়হান উদ্দিনের নের্তৃত্বে অর্ধশতাধিক লোক সৈয়দপুরের সমুদ্র উপকূলে কৃষি জমি ভরাট করতে যান। সেখানে প্রায় ১০০ একর কৃষি জমি ভরাটের কাজ শুরু করতে চেয়েছিলেন তারা। তবে,স্থানীয় কৃষকরা এর প্রতিবাদ জানানোর চেষ্টা করতে গেলে তারা তাদের ওপর ক্ষেপে যান। পরে ওই গ্রামবাসীদের কয়েকজনের আকুতিতে গ্রামের অন্যান্য শতো শতো লোক জামায়াত নেতাদের প্রতিরোধ করতে এগিয়ে আসেন! শেষোতক এলাকাবাসীর তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হন্ বলে উক্ত গ্রামের একাধিক লোক এ প্রতিবেদকে জানান দেন। অন্যান্য একটি সূত্র থেকে প্রাপ্ত সংবাদে জানা গেছে- গ্রামবাসীদের ধাওয়া খেয়ে পালাতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
কয়েকজন জামায়াত নেতা আহত হয়েছেন। এমন ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক প্রাণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
প্রাপ্ত অভিযোগে প্রকাশ, গত ৫ আগষ্টের পর থেকে সীতাকুন্ডের কুমিরা ইউনিয়ন জামায়াত নেতা জসিম উদ্দিন ও সীতাকুণ্ড পৌরসভা জামায়াত নেতা এবং সাবেক কমিশনার রায়হান উদ্দিন কুমিরা, আকিলপুর, বাঁশবাড়িয়া ও বাড়বকুণ্ড এলাকায় শতো শতো ড্রেজার দিয়ে বালু ভরাট করে চলেছেন। তাদের কাছে ড্রেজার থাকায় সমঝোতার মাধ্যমে সোমবার প্যাসিফিক জিন্সের মালিক ও সাবেক এমপি এস এম আল মামুনের চাচাতো ভাই সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসীকে সৈয়দপুরের পশ্চিম সৈয়দপুর গ্রামের ওই বালু ভরাট এলাকায় পাঠান।
ওইদিন বিকাল প্রায় ৩ টার দিকে ড্রেজার মেশিন লাগিয়ে উৎপাদিত ফসলের জমিতে বালু ভরাটের কাজ শুরু করেন জামায়াত নেতা রায়হান উদ্দিন ও জসিম উদ্দিন উক্ত সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে। পরে সমুদ্র থেকে বালু তোলার পাইপ লাগানোর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় গ্রামের বাসিন্দারাবা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা মিলে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এ সময় তারা স্থাপিত বালুর পাইপ সেখান থেকে নিয়ে দুরে ফেলে দেয়।
তাৎক্ষণিক ঘটনা সম্পর্কে জামায়াত নেতা জসিম ও সাবেক কমিশনার রায়হান উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তারা প্যাসিফিক জিন্সের মালিকের হয়ে বালু ভরাট শুরু করেছেন বলে তারা সংবাদ মাধ্যমকে জানান।
কোটি কোটি টাকার উৎপাদিত ফসল মাড়িয়ে বালু ভরাট দেবে না বলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও তাদের পক্ষ নেয়া গ্রামবাসীরা হুংকার দিয়ে বলেন, জীবন যতোক্ষণ থাকবে ততোক্ষণ সরকার’র অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যাক্তি বিশেষকে এমন কাজ করতে দেয়া হবে না।
এদিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পতিত আওয়ামী লীগের পলাতক কিছু নেতার সন্ত্রাসী পৃষ্ঠপোষকতায় জামায়াতে ইসলামীর উক্ত নেতাদের এমন কর্মে এলাকা ব্যাপী চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
ঘটনা প্রসঙ্গে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মুজিবুর রহমান বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, কৃষকের শীতকালীন সবজির ওপর বালু ঢেলে ভরাটের চেষ্টা করলে মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসী তাদের প্রতিরোধ করেছে বলে আমি শুনেছি। তবে, গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে এখনো কেউ থানায় মামলা করতে আসে নাই।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, সমুদ্র থেকে বালু উত্তোলন করে কৃষি জমি ভরাটের কোনো অনুমোদন আমরা দিইনি। এই ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।