এম, এ কাশেম ,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
সব ধরনের বাধাবিপত্তি পেরিয়ে এবং সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে চট্টগ্রাম ১ মীরসরাই আসনে যাচাইবাছাইয়ে ও টিকে গিয়ে বিএনপি’র ‘ধানের শীষ’র একক প্রার্থী হয়ে গেলেন নুরুল আমিন।
পচে পড়া ঢেউ এ বাধাহীন তরীতে সাগর-মহাসাগর পাড়ি দিতে চলেছেন জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রাম ১ মীরসরাই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া ‘ধানের শীষ’ এর প্রার্থী নুরুল আমিন।
ব্যাক্তিগত জীবনে তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলার আওতাধীন মীরসরাই উপজেলার ৫ নং ওচমানপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। এলাকার মানুষের সমর্থন পেয়ে তিনি তার নিজের ওয়ার্ডের একজন ইউপি সদস্য (মেম্বার) নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার আরো এক ধাপ এগিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও নির্বাচিত হয়ে যান।
তখন তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না। পরবর্তীতে তিনি সদ্য ইন্তেকালকৃত বিএনপি’র সম্মানিত চেয়ারপার্সন দেশ মাতা বেগম খালেদা জিয়ার আহবানে সাড়া দিয়ে বিএনপিত যোগদান করে দলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। রাজনীতির মাঠে পদচারণা হীন ব্যাক্তি ওই নুরুল আমিন নুরুল আমিন চেয়ারম্যানে রুপান্তরিত হয়ে রাজনীতির মাঠে একের পর এক বাজিমাত সৃষ্টি করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। যার নের্তৃত্বে মীরসরাই উপজেলা বিএনপি একেবারেই সরবে চলে আসে। এর পর থেকে তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। নির্বাচিত হয়ে যান মীরসরাই উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক। কারিশমাটিক রাজনীতির বুদ্ধিচেতার সুবাদে উপজেলা পেরিয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি’র সহ সাধারণ সম্পাদক হয়ে যান তিনি। এর পর আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলেই বিএনপি’র মনোনয়ন পেয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও নির্বাচিত হয়ে যান তিনি। এর পর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটিতে তিনি তার রাজনৈতিক যোগ্যতাবলে যুগ্ম আহবায়ক দায়িত্ব ও পেয়ে যান। এর ও পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র মনোনয়ন লাভ করে এমপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ও অবর্তীর্ণ হন। কিন্তু, তৎসময়ে আওয়ামী লীগের রোষানলে পড়ে তার আর নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ বছরের পর বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার পর অনেক জ্ঞাত-প্রতিজ্ঞাত ডিঙিয়ে জুলাই-আগষ্টের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটার পর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র একক মনোনয়ন পেয়ে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে যাচ্ছেন।
বলাবাহুল্য যে, দলের কোনো এক নিয়ম শৃঙ্খলার বাইরে থাকার অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিলো। কিন্তু, রাজনৈতিক কারিশমাটিক ক্ষমতায় তিনি তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়ে পূর্বেকার দল মনোনীত প্রার্থীর পরিচিতির সুবাদে আরো কয়েকজন দলনেতার মনোনয়ন প্রত্যাশার কবর রচনা করে দল থেকে আবারও মনোনয়ন ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হন। এর পর অনেক জল্পনা কল্পনা ছিলো মনোনয়ন যাচাইবাছাই করনে তিনি ছিটকে পড়েন কী না। সেই ধাপ ও টপকিয়ে গিয়ে তিনি তার মনোনয়ন পাকাপোক্ত করে নিলেন। অবশেষে সকল বাধাবিপত্তি পেরিয়ে তিনি বিজয়ের সপ্তডিঙ্গা নিয়ে সাগর-মহাসাগরে পাড়ি দিয়ে চলেছেন।
১৯৭১ সালের যুদ্ধকালীন সময়ে পাক্ হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধে অবর্তীর্ণ হওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতার মহান ঘোষক, সেনা বাহিনীর প্রধান ও
বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান এর স্মৃতি বিজড়িত মীরসরাই উপজেলার আপামর জনগোষ্ঠী শহীদ জিয়ার ‘ধানের শীষ’ প্রার্থী নুরুল আমিন চেয়ারম্যানকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করিয়ে পাড়ি দেয়া সাগর- মহাসাগরের কুল পাইয়ে দিবেন যে, সেই আশা যেমন ‘ধানের শীষ’ এর প্রার্থী নিজে অনুধাবন করে চলেছেন ঠিক তেমনি দলীয় নেতা-কর্মীরা ও সমাল তালে অনুভবে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন।
বিজয়ের হাসি হেসে চট্টগ্রাম ১ মীরসরাই আসনটি বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে তুলে দিতে পারবেন বলে ‘ধানের শীষ’ এর প্রার্থী নুরুল আমিন চেয়ারম্যান যেমনি আশাবাদী তেমনি দলের অগনিত নেতা-কর্মী ও সমর্থক এবং ভোটার সহ সাধারণ মানুষের ধারনা।