আহসান হাবীব শেখ,সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি:
এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা পেশায় কর্মরত থাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমানের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা এ সিদ্ধান্ত জানান।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মাজেদুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে একটি এমপিওভুক্ত কলেজে শিক্ষকতা করে আসছেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকায় নির্বাচন সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়াও গাইবান্ধা-১ আসনে আরও চারজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. মাহফুজুল হক সরদার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. রমজান আলী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা মহসিন সরদার ও মোছা. ছালমা আক্তার।
সূত্র আরও জানায়, এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনের তদন্তে সত্যতা না পাওয়ায় স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা মহসিন সরদার ও মোছা. ছালমা আক্তারের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. রমজান আলীর হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. মাহফুজুল হক সরদারের দলীয় মনোনয়নপত্রে ত্রুটি থাকায় তাঁদের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী, জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, আমজনতার দলের মো. কওছর আজম হান্নু, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) পরমানন্দ দাস এবং এলডিপির মো. শরিফুল ইসলাম।
গাইবান্ধা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, গাইবান্ধা-১ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ৫ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তারা আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন আচরণবিধি প্রতিপালনে মাঠপর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত তদারকি করছেন। একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে।