ভারতের বিপক্ষে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)! তবে সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে তিনটি স্পষ্ট দাবি তুলে ধরেছে সংস্থাটি।
রবিবার লাহোরে আইসিসির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে পিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল, কীভাবে সমঝোতার মাধ্যমে বহুল প্রতীক্ষিত ভারত–পাকিস্তান ম্যাচটি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মাঠে গড়ানো যায়।
সূত্রের বরাতে ক্রিকবাজ জানিয়েছে, ভারতের বিপক্ষে বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার বিনিময়ে আইসিসির কাছে পিসিবির তিনটি শর্ত হলো—
১) আইসিসি রাজস্ব বণ্টনে পাকিস্তানের অংশ বৃদ্ধি
২) ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট পুনরায় চালু করা
৩) আন্তর্জাতিক ম্যাচে হ্যান্ডশেক প্রটোকল কঠোরভাবে কার্যকর করা
এর আগে পাকিস্তান সরকার প্রকাশ্যে জানায়, নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচ থাকলেও ভারত ম্যাচ খেলতে দলকে অনুমতি দেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন সরকার কেন এমন অবস্থান নিয়েছে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি।
ক্রিকেট অঙ্গনে ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানাতেই মূলত এমন অবস্থান নেয় পাকিস্তান। নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতের বাইরে ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ আইসিসি নাকচ করায় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়।
এরপরই পাকিস্তানের অবস্থান কঠোর হয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এরপর বিষয়টি নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা হিসেবে আইসিসি পিসিবির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে। আইসিসির সিইও সঞ্জোগ গুপ্ত জুমে যুক্ত হন। লাহোরে উপস্থিত ছিলেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি, আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা এবং বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
ক্রিকবাজ আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশও আইসিসির কাছে ক্ষতিপূরণ চাইতে পারে। চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে সেই সমঝোতা আদায়ে পাকিস্তান মধ্যস্থতার ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পিসিবি জানে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ না হলে আইসিসি বড় অঙ্কের সম্প্রচার রাজস্ব হারাতে পারে। সেই আর্থিক চাপকেই কাজে লাগাতে চাইছে পাকিস্তান। বর্তমানে আইসিসির রাজস্ব বণ্টনে পাকিস্তান চতুর্থ সর্বোচ্চ আয়কারী বোর্ড।