এম, এ কাশেম, চটগ্রাম প্রতিনিধি :
উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাইতে ঘটনা-দুর্ঘটনায় একের পর এক বিএনপি’র নেতা কর্মীরা মারা যাচ্ছে আর নেতা নামধারী সুবিধাবাজ/ধান্দাবাজ ব্যাক্তিরা দাঁত কিলিয়ে হাসে/হাসছে! এবং বিভিন্ন ভাবে নিহত নেতা কর্মীদের জানাজায় শরিক হয়ে মায়া কান্নায় বক্তব্য রেখে শেষ করে অন্তর থেকে মুছে ফেলছে অতিত দুঃসময়ের দল প্রিয় ওই সব সাধারণ নেতা কর্মীদেরকে!!!
বলাবাহুল্য, সাবেক নুরুল আমিন চেয়ারম্যান এবং বর্তমান নুরুল আমিন এমপি’র বিরুদ্ধাচরণ কারীরা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা হাতিয়ে নেয়ার মানসে ‘মুখে মিঠা বোগলে ইটা’ রাখার অভিনয়ে এমপি নুরুল আমিন এর অতি ধারে কাছে ঘুর ঘুর করতে দেখে অনেকেই ক্ষোভ ঝাড়লে ও তাদের যেনো কিছু যায় বা আসে না মনোভাব নিয়ে চলছে তারা!
কিন্তু, দীর্ঘ ১৭ বছর দলের যে সব নেতা কর্মীরা সিমাহীন অত্যাচার- নির্যাতন, হামলা -মামলা, জেল জুলম সহ নানাবিধ: দুঃখ কষ্ট, যাতনা সইয়ে দলের এখনকার সু’সময়ে এসে জীবন হারাতে হচ্ছে এবং কেউ কেউ মারাত্মক আহত হয়ে অসহনীয় জীবন অতিবাহিত করে যাচ্ছে তাদের জন্য কি করছে ওই সব নেতা নামধারী ব্যাক্তিরা?
গত ৫ আগষ্টের আগের কথা বাদ দিলে ও ৫ আগষ্টের পর থেকে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজন হতাহত হলে ও এখন পর্যন্ত এর কোনো সুরাহা হয়নি।
মীরসরাই থানা যুবদলের আহবায়ক কামাল উদ্দিনকে ব্যাক্তি বিশেষরা ড্রাম ট্রাক চাপায় দিয়ে হত্যা করে। বিএনপি দলীয় সাংবাদিক আবদুল মান্নান রানাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ওই রকম ড্রাম ট্রাক চাপায় দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু, সে প্রানে বেঁচে গেলে ও তার দুই টি পা কেটে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে দেয়া হয়।
অনুরূপ ড্রাম ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয় মীরসরাইয়ের বাসিন্দা-চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক শওকত আকবর সোহাগ কে। শেষান্তে-গত ১৮ এপ্রিল মীরসরাই উপজেলার ১ নং করেরহাট ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, তরণ বয়সী মেধাবী ছাত্র নেতা শাহরিয়ার হোসেন হ্রদয় সহ ৩ ছাত্রদল নেতার ওপর হামলা চালানো হয় হত্যার উদ্দেশ্যে। সপ্তাহান্ত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়ে ২৪ এপ্রিল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে। ২৬ এপ্রিল নামাজে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। ঘটনায় মারাত্মক আহত হয়ে এখনো বেঁচে থাকা তার অপর দুই সাথী ভাই মৃত্যুর সাথে লড়ে যাচ্ছে।
এ ছাড়া মীরসরাই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আরো কয়েকজন বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা আহত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
অথচ, এতো সব ঘটনার পর ও বিএনপি তে থাকা কিছু নেতা নামধারী ব্যাক্তিরা বড় বড় দাঁত বের করে তা কিলিয়ে হেসে চলছে নিজেরা নিজেদের ধান্দাবাজির পাকাপোক্ত করার সাজিতে।
নানাবিধ: ভাবে নিহত হওয়া দলীয় নেতা কর্মীদের জানাজায় নামে মাত্র শরিক হয়ে মায়া কান্না মিশ্রিত কথাবার্তা বলে সেখান থেকে ফিরে ভুলে যায় যে সব সাধারণ নেতা কর্মীরা তাদেরকে নেতা হওয়ার পথ সুগম করে দিতে গিয়ে অতিত দুঃসময়ে নিজেদের জীবনের কথা ও চিন্তা করেনি আজকে যারা কবর বাসী হয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে সেই সব দল প্রিয় নেতা কর্মীরা।
সামগ্রিক বিষয়াবলী নিয়ে এমপি নুরুল আমিন নিজে ও উদ্বিগ্ন। তথাপি, মনে হয় করার কিছু ই নেই!
নির্বাচনের আগের কথা বাদ দিলে ও নির্বাচন পরবর্তী এ পর্যন্ত যতো গুলো হতাহতের শিকার হয়েছে দলের নেতা কর্মীরা তাতে নুরুল আমিন এমপি’র কাছে ও মায়া লাগে, হ্রদয় কাঁপে। এবং এ থেকে উত্তরনের জন্য তার ও যথেষ্ট আন্তরিকতা দেখা যায়। তথাপি, কিচ্ছুতেই কিছু হচ্ছে না কেনো?