শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সভাপতি জাফর সম্পাদক ইমন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সভাপতি জাফর সম্পাদক ইমন চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে সন্ত্রাসী হামলায় ছাত্রদল নেতা নিহত, প্রতিবাদ এবং হত্যা কারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ এইমাত্র বনানীতে মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায় দুইজন স্পটেই নিহত হয়েছেন জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ উপলক্ষে কর্মসূচী ঘোষণা জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ উপলক্ষে ৭ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা উখিয়ায় বিজিবির অভিযানে ৬০ লক্ষ টাকার ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার কামরাঙ্গীরচরে প্রিন্টিং কারখানায় আগুন, দ্রুত নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস নতুন এসপি মিজানুর রহমানের হাতে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা জোরদারের প্রত্যাশা শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ শিশুদের হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ এর উদ্বোধন,

ভাইরালের বিড়ম্বনা, বিপদে ফুটপাতের সেই হোটেল মালিক মিজান

ঢাকার ফুটপাথের পাশে ছোট্ট এক ভাতের হোটেল। কোনো চাকচিক্য নেই, নেই কাচের শোকেস বা দামি সাইনবোর্ডও। গরম ভাতে ধোঁয়া উড়েছে, তরকারি আর মাংস সাজানো বাটিতে। এই হোটেলের কোনো কর্মচারী নেই—রান্না থেকে শুরু করে সাজানো, সবই একা সামলান মিজানুর রহমান, সবার প্রিয় ‘মিজান ভাই’।

মিজানের হোটেলের নিয়ম ছিল একেবারেই অন্যরকম। গ্রাহক নিজের মতো খাবার তুলে নিতেন, আর খাওয়া শেষে একটা ছোট্ট প্লাস্টিকের কৌটায় নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী টাকা রেখে যেতেন। কারও পক্ষে বেশি দেওয়া সম্ভব হলে দিতেন, না পারলে কিছু না দিয়েও খেতে পারতেন। এভাবেই চলছিল মিজানের ‘ফুটপাতের বুফে’।

কিন্তু একদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলেন মিজান। ভিডিওতে দেখা গেল হাসিমুখে অতিথিদের স্বাগত জানাচ্ছেন, কেউ কম দিচ্ছে তো মিজান কিছু মনে করছেন না। সেই ভিডিওর ভিউ মিলিয়ন পেরোল। মানুষের ভিড়ও বাড়ল কিন্তু তার সঙ্গে বদলে গেল সবকিছু।

প্রথমে ভিড় জমাল ইউটিউবার আর কনটেন্ট ক্রিয়েটররা। খাবারের চেয়ে তাদের আগ্রহ বেশি ছিল রিভিউ, ক্যামেরায় মিজানের মুখ ধরা, ভাইরাল কনটেন্ট বানানো। মিজান বলেন, সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে রান্নার সময়ই পাই না। খাবার ঠিকমতো হয় না, তাই বিক্রিও কমে গেছে।

আগে দিনে বিক্রি হতো ১২০০ টাকার বেশি, এখন ৫০০–৬০০ টাকাও ওঠে না। মিজানের কণ্ঠে তীব্র কষ্ট “মানুষ বেশি হয়ে গোশত তিন চার পিস করে নিয়ে খেয়ে যায়, আমি কিছু বলতে পারি না। ১০ কেজির কড়াই তুলি, শেষে ডিব্বায় মাত্র এক হাজার টাকা। অনেকে টাকাই দেয় না। আমার হাজিরার টাকাও থাকে না।”

এরই মধ্যে প্রশাসনের চাপ—হোটেল সরিয়ে নিতে হবে। পুলিশের কথায় আতঙ্কিত, আবার নিজের কিছু উল্টোপাল্টা মন্তব্যে অনুশোচনায় ভুগছেন তিনি। চোখ ভিজে আসে মাগরিবের আগে দোকান গুটিয়ে বাসায় ফেরার কথায়। মিজানের দাবি, এসব কাণ্ডে স্ত্রীও তার ওপর বিরক্ত। ব্যবসাও একেবারেই মন্দায়।

শেষে প্রায় মিনতির সুরে মিজান বলেন, “সবাইকে বলি, আমার ব্যবসাটা নষ্ট কইরেন না। আমি তো জানতাম না ভাইরাল হইলে এমন হয়।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Like Our Page