বেলাল উদ্দিন জয় :
সরকারি নিয়োগবিধি অনুযায়ী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০১১, ২০১৫, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে মোট চারটি ব্যাচে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) নিয়োগপ্রাপ্ত হয়। এর মধ্যে পূর্বের তিন ব্যাচ ইতোমধ্যে অপারেশনাল প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়ে রাজস্বখাতে স্থায়ী নিয়োগ ও বেতন-ভাতা সুবিধা পেয়েছেন।
কিন্তু ২০২৩ সালের ব্যাচের ৬৬২ জন সিএইচসিপি গত ১৬ মাস ধরে কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। তারা নিয়মিত অফিস করছেন, জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন, অথচ মাস শেষে পাচ্ছেন না তাদের ন্যায্য প্রাপ্য বেতন।
এই অবিচারের প্রতিবাদে সারাদেশ থেকে আগত সিএইচসিপিরা গত চার দিন ধরে রাজধানীর মহাখালীর বিএমআরসি প্রাঙ্গণে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তাদের দাবিগুলো হলো —
১, গত ১৬ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ।
২️, নিয়োগের তারিখ থেকে চাকরির স্থায়ীকরণ।
তবে কেন এই ব্যাচের প্রাপ্যতা স্থগিত রাখা হয়েছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেননি কেউ।
গতকাল আন্দোলনস্থলে গিয়ে সহকারী সচিব বিমল দে বলেন, “ওদের সব কাগজপত্র আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি, কিন্তু প্রক্রিয়াটা কেন সম্পন্ন হচ্ছে না সেটা আমাদেরও অজানা।” তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব নাকি জানিয়েছেন, “৩০ নভেম্বরের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে।”
কিন্তু আন্দোলনরত সিএইচসিপিরা বলছেন, এর আগেও তিনবার এমন আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। তাই এবার তারা লিখিত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত ছাড়া আন্দোলন বন্ধ করবেন না।
গত ১৬ মাসে অনেক সিএইচসিপি ঋণের বোঝায় জর্জরিত, কেউ সন্তানদের স্কুল ফি দিতে পারছেন না, কেউ পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অথচ তারা নিরলসভাবে জনগণের পাশে থেকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
একজন আমলার অনিচ্ছার কারণে ৬৬২টি পরিবার কেন ক্ষতিগ্রস্ত হবে— এই প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।
তারা সরকারের কাছে দ্রুত স্থায়ী সমাধান ও বকেয়া বেতন পরিশোধের জোর দাবি জানিয়েছেন।