স্টাফ রিপোর্টার:
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর এলাকায় নির্মাণকাজে বাধা ও চাঁদার দাবিকে কেন্দ্র করে এক পরিবারকে বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মোঃ রাসেল (৩৪) বেগমগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, হাজীপুর গ্রামের কলিম উদ্দিন হাজী বাড়ী এলাকায় তার বসতবাড়িতে নির্মাণকাজ চলমান অবস্থায় একই এলাকার ইসমাইল হোসেন মাসুদ (২৫), ইব্রাহিম মামুন (৩৬), ইউসুফ পাঠান (৩৬)সহ ১৫–২০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির একটি সংঘবদ্ধ দল দীর্ঘদিন ধরে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। অভিযোগকারী রাসেল ও নির্মাণ কাজের ঠিকাদার চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়।
রাসেল অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন ১৪ নভেম্বর বিকেল ৪টার দিকে বিবাদীগণ রামদা, চাপাতি, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা–ফুলাজনিত জখম করে।
রাসেলকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে সাক্ষী খুরশিদ আলম, মহিন উদ্দিন ও রোকসানা আক্তারকেও মারধর করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন মাসুদ ছেনি দিয়ে খুরশিদ আলমকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ মারতে চাইলে তিনি হাতে ঠেকিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত হন। অন্যদিকে ইব্রাহিম মামুন খুরশিদের গলা চেপে শ্বাসরোধের চেষ্টা করে এবং ইউসুফ পাঠান লোহার রড দিয়ে তার পায়ে, বুকে ও পিঠে আঘাত করে।
এ ছাড়া নারীর প্রতি নিপীড়ন এবং স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগও করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ৩নং সাক্ষী রোকসানা আক্তারের পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানী করা হয় এবং খুরশিদ আলমের গলা থেকে ১ ভরি স্বর্ণের চেইন জোরপূর্বক নিয়ে যায়।
হামলাকারীরা রাসেলের বসতঘরের মূল্যবান আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৬০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে এবং মামলা করলে প্রাণে মেরে লাশ গুম করে দেওয়ার হুমকিও দেয়।
পরিস্থিতি অবনতি হলে স্থানীয়রা পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরে রাসেল ও আহত খুরশিদ আলম বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। তাদের চিকিৎসার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৮৫০৩/২২ ও ৮৫০৬/২৫।
চিকিৎসা শেষে থানায় এসে দেরিতে অভিযোগ জমা দেন বলে জানান রাসেল।
এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।