নিজস্ব প্রতিবেদক :
সরকারি নিয়োগবিধি অনুযায়ী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০১১, ২০১৫, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে মোট চারটি ব্যাচে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) নিয়োগপ্রাপ্ত হন। ২০২৪ সালের ১৫ই ডিসেম্বর পদটি প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত হয়।
এরপর ২০১১, ২০১৫ ও ২০১৮ ব্যাচের সদস্যরা অপারেশনাল প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়ে রাজস্বখাতে স্থায়ী নিয়োগ ও বেতন-ভাতা সুবিধা পেলেও, ২০২৩ ব্যাচের ৬৬২ জন সিএইচসিপি গত ১৭ মাস ধরে কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না।
তারা প্রতিদিন অফিস করেছেন, মানুষের সেবা দিয়েছেন, কিন্তু মাস শেষে কোনো বেতন পাননি। এই অবিচারের প্রতিবাদে সারাদেশ থেকে আগত সিএইচসিপিরা গত ২ দিন ধরে মহাখালীর BMRC তে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন। তাদের দাবিগুলো একেবারেই সরল ও ন্যায্য:
গত ১৭ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং নিয়োগের তারিখ থেকে চাকরির স্থায়ীকরণ।
কিন্তু কেন এই ব্যাচের প্রাপ্যতা স্থগিত রাখা হয়েছে — তার কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর আজও কেউ দিতে পারেননি।
গতমাসের ৪ নভেম্বর থেকে টানা ৮ দিন অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর “স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয় তাদের জানিয়েছেন, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে তাদের সকল সমস্যার সমাধান হবে। আন্দোলনকারীদের এর আগেও তিনবার এমন আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয়নি। এই নিয়ে তাদের ৪র্থ বারের মতো মিথ্যা আশ্বাস দেয়া হলো। তাই এবার তারা লিখিত ও কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া এই আমরণ অনশন থামাবেন না।এতে যদি তাদের মৃত্যুও হয়, তার জন্য তারা রাষ্ট্র কে দায়ী করবেন বলে জানিয়েছেন।
গত ১৭ মাসে অনেক সিএইচসিপি ঋণে ডুবে গেছেন, কেউ সন্তানদের স্কুল ফি দিতে পারছেন না, কেউ পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অথচ তারা জনগণের পাশে থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
একজন আমলার অনিচ্ছার কারণে ৬৬২টি পরিবার ভুক্তভোগী হতে পারে না। সরকারের কাছে অনুরোধ, দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করুন।
এই মানুষগুলো শুধু স্বাস্থ্যকর্মী নন, তাঁরা প্রান্তিক বাংলাদেশের জীবনরেখা।