এম, এ কাশেম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
দলীয় ভাবে মনোনয়ন দেয়া দেশের যে কোনো আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করা দলের নীতি নির্ধারণী নের্তৃবৃন্দ সহ স্বয়ং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর এখতিয়ার। যে কথাটি তৎসময়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ষষ্ঠ ভাবে বলে দিয়েছিলেন। প্রার্থী যাহা দু’একটা পরিবর্তন করা হয়েছে তার ঘোষণা ও এসেছে। কিন্তু, গতকাল ঢাকা বিএনপি চেয়ারপার্সন এর কার্যালয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালী জরুরি সভা ডেকে যে সব দিক নির্দেশনা দিয়েছেন তা একান্তই উপস্থিত প্রার্থী এবং দলের নীতি নির্ধারণী নের্তৃবৃন্দ ব্যাতিরেকে অন্য কারো জানার বিষয় নয়। তথাপি, গতকাল রাত থেকে এখন পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে দলের অনেকেই বিভ্রান্ত মুলক পোষ্ট দিয়ে তাদের নিজেদের পক্ষে বিপক্ষের মনোনীত এবং মনোনয়ন প্রত্যাশিদের সম্পর্কে লিখে যাচ্ছেন। অমুক আসনে তমুক প্রার্থী পরিবর্তন করে ওমুক তমুককে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে! আসলে তা যদি সত্য হতো তাহলে দলের একমাত্র মুখোপত্র দৈনিক ‘দিনকাল’ পত্রিকায় তা সবার আগে প্রকাশিত হতো। এ ছাড়া অন্যান্য পত্রিকায় ও সে বিষয়ে নিউজ আসতো। এর বাইরে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে তা দেয়া হতো। কিন্তু, কোনো টা-ই এখন পর্যন্ত কেউ দেখতে পায়নি। দেশের কোথাও না কোথাও প্রার্থী যে পরিবর্তন হবে না তা বলার ও অবকাশ নেই। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রার্থী মনোনয়ন ও পরিবর্তন এর বিষয়ে দলের নেতা-কর্মীদের ভিতর ক্ষোভ বিক্ষোভ এখনো বিদ্যমান রয়েছে। আর তা মনিটরিং ও করা হচ্ছে দলের শীর্ষ পর্যায়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত নের্তৃবৃন্দের মাধ্যমে।
দেশের সর্বাধিক আলোচিত আসনগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম সর্ব শীর্ষে রয়েছে। আর চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনের সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য আসন হচ্ছে চট্টগ্রাম ৪ সীতাকুণ্ড আসন।
এই আসনটিতে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে দলের চেয়ারপার্সন এর উপদেষ্টা সদস্য লায়ন আসলাম চৌধুরী (এফসিএ)। এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশি থাকলে ও তাকে মনোনয়ন না দিয়ে দেয়া হয়েছে কাজী সালাহ্ উদ্দিনকে। মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পর আসলাম চৌধুরীর পক্ষিয় নেতা-কর্মীরা ক্ষোভ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। চলে- বাদ-প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ-মিছিল। এমন কি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত অবরোধ করা হয়েছিলো।
শেষ পর্যন্ত দলের হাই কমান্ড বিষয়টি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর নজরে দেন। এর পর নতুন করে চিন্তা ভাবনা চলছে বলে ও দলের একটি সূত্র জানায়। কিন্তু, গতকালের বৈঠকে সেই সীতাকুণ্ড আসনে পূর্বেকার মনোনয়ন দেয়া কাজী সালাহ্ উদ্দিনকে বাদ দিয়ে আসলাম চৌধুরীকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে চুড়ান্ত ভাবে এমন খবরের সত্যতা এখনো কোনো সংবাদপত্র বা টেলিভিশন চ্যানেলে আসেনি। বিশেষ করে দলের একমাত্র মুখোপত্র দৈনিক দিনকাল পত্রিকায় আসেনি। ফলে- বিষয়টি নিয়ে এখনো ধুম্রজাল অব্যাহত রয়েছে।
তবে, আসলাম চৌধুরীর পক্ষিয় নেতা-কর্মীরা উল্লাস করতে চাইলে ঢাকা থেকে আসলাম চৌধুরী নিজেই সকল নেতা-কর্মীদেরকে তা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি ঢাকা থেকে চুড়ান্ত হয়ে এলাকায় আসলে বিষয়টি পরিস্কার হবে বলে ও মনে করেন দলের একাধিক নেতা-কর্মীরা। এ ছাড়া অনুরূপ ভাবে অন্যান্য আসনগুলো ও এক- ই পর্যায়ে রয়েছে বলে দলীয় ভাবে জানা গেছে। এমন কি এখনো চুড়ান্ত ভাবে কাউকে সিলেকশন করা হয়নি প্রাপ্ত সংবাদে জানা গেছে।