মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এভারকেয়ার হাসপাতাল চত্বর ছিল একেবারেই ব্যতিক্রম দৃশ্যের সাক্ষী। বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে হাসপাতালের সামনে জড়ো হতে থাকেন হাজারো মানুষ। নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে এলাকা পরিণত হয় গভীর শোক ও আবেগঘন পরিবেশে।
সকাল থেকেই হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের চোখেমুখে ছিল গভীর বেদনার ছাপ। কেউ নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন, কেউ চোখের জল লুকোচ্ছিলেন, আবার কেউ দুই হাত তুলে দোয়া করছিলেন। ভিড়ের ভেতর কোথাও কান্নার শব্দ, কোথাও ভারী দীর্ঘশ্বাস—সব মিলিয়ে শোকের এক স্তব্ধ আবহ তৈরি হয়।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা হাসপাতালে এসে জড়ো হতে থাকেন। তবে এদিন কোনো স্লোগান বা রাজনৈতিক কর্মসূচি চোখে পড়েনি; পুরো এলাকাজুড়ে ছিল নীরবতা ও শোকের প্রকাশ। অনেক নেতা-কর্মীকে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। তাঁদের অনেকেই বলছিলেন, “এ ক্ষতি কখনো পূরণ হওয়ার নয়।”
হাসপাতালের আশপাশে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। তাঁদের অনেকেই রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন। কেউ এসেছেন দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে, কেউ এসেছেন কেবল শোক প্রকাশ করতে।
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে তাঁর স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হতে পারে।