কাজী মো. আবুল খায়ের, কুমিল্লা প্রতিনিধি :
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কুমিল্লা জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে সম্পদ ও আয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক বৈচিত্র্য। বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, এনসিপি ও অন্যান্য দলের প্রার্থীদের ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ কোথাও শত কোটি টাকায় পৌঁছেছে, আবার কোথাও সীমাবদ্ধ কয়েক লাখ টাকায়।
হলফনামা অনুযায়ী কুমিল্লা-১ থেকে কুমিল্লা-১১ আসন পর্যন্ত প্রার্থীদের ঘোষিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, বার্ষিক আয় ও কর প্রদানের তথ্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। কেউ শিল্প ও ব্যবসা খাতের সুবাদে বিপুল সম্পদের মালিক, আবার কেউ শিক্ষকতা, বাড়িভাড়া কিংবা সম্মানী ভাতার ওপর নির্ভরশীল।
কুমিল্লা-১ আসনে ডা. মোশাররফ হোসেনের পরিবারের মোট ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪১ কোটি টাকার বেশি। কুমিল্লা-২ ও কুমিল্লা-৩ আসনে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের সম্পদের পরিমাণ কয়েক কোটি থেকে ১৩ কোটিরও বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কুমিল্লা-৪ আসনে ইঞ্জিনিয়ার মনজুরুল মুনসীর নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে নগদ ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬০ টাকা সম্পদ দেখিয়েছেন। তার স্ত্রী মাজেদা আহসান মুন্সী গৃহিণী হিসেবে ২১ লাখ ৮৭ হাজার ৯৮৩ টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছেন। একই আসনে ১২ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার সম্পদ উল্লেখ করেছেন।
কুমিল্লা-৬ আসনে শত কোটি টাকার মালিক প্রার্থীর পাশাপাশি লাখ টাকার সম্পদের প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। কুমিল্লা-৭ ও ৮ আসনে সর্বোচ্চ বার্ষিক আয় কোনো কোনো প্রার্থীর ক্ষেত্রে ৫৯ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। কুমিল্লা-৯, ১০ ও ১১ আসনেও সম্পদ, আয় ও কর প্রদানের তথ্যে বড় ধরনের ব্যবধান স্পষ্ট।
সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে কুমিল্লার ১১ আসনের প্রার্থীদের আর্থিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নির্বাচনী হলফনামার এই চিত্র ভোটারদের মাঝেও কৌতূহল ও প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।