মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ইসির নতুন প্রজ্ঞাপন, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিতে পারবেন যারা সরকারে গেলে যাত্রাবাড়ীতে ইপিজেড করা হবে : তারেক রহমান বিশ্বের দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় ১৩তম বাংলাদেশ আইসিসি-বিসিবির অনুরোধে ভারতের বিপক্ষে খেলবে পাকিস্তান, লাভবান হলো বাংলাদেশ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কমনওয়েলথ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সাক্ষাৎ ওসমান হাদির পরিবারকে ফ্ল্যাটের দলিল হস্তান্তর করলেন প্রধান উপদেষ্টা গাইবান্ধায় জেলায় ৬৭৫ ভোট কেন্দ্রের মধ্য ৩৭৯টি ঝুঁকিপূর্ণ ঢাকায় শুভ-মিমের ‘মালিক’ সিনেমার শুটিং শুরু ফেব্রুয়ারিতে আকাশে দেখা মিলবে বিরল ধূমকেতু মধ্যপ্রাচ্যে সব মার্কিন ঘাঁটি ইরানি মিসাইল রেঞ্জে, ট্রাম্পের না ভেবে উপায় নাই!

দিনের ভোট দিনে ঝুঁকি নয়, খুঁজুন আস্থার পথ

আহমেদ আবু জাফর, সভাপতি, নির্বাহী কমিটি ও চেয়ারম্যান ট্রাস্টি বোর্ড, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম :

জাতীয় নির্বাচন একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক শক্তি ও পরিপক্বতার প্রতিফলন। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ যত স্বচ্ছ ও প্রশ্নমুক্ত হবে, ততই জনগণের আস্থা দৃঢ় হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো ভোটের আগের রাতে ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স ভোটকেন্দ্রে পাঠানোর প্রচলন দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচন ব্যবস্থাকে বিতর্কিত ও অবিশ্বাসের মুখে ফেলেছে।
এই প্রেক্ষাপটে “দিনের ভোট রাতে নয়” বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফরের আহ্বানটি বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে। আমরা দেখেছি ইতিপূর্বে ভোটের আগের রাতে ভোট কেন্দ্র গুলো চরম ঝুকিপূর্ণাবস্থা। যেখানে প্রিজাইডিং-পুলিং অফিসার থেকে শুরু করে প্রশাসনের লোকজন কেন্দ্রের ব্যালট-বাক্স পাহারা দিতে গিয়ে চরম খারাপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। গোলাগুলি, হতাহত, ব্যালট বাক্স ছিনতাই কিংবা অধিকাংশ ব্যালটে রাতেই সিল মারার মত চরম নষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে হয়েছে। ফলে ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোট খুঁজে পায়নি, এমনকি মৃত্যু ব্যক্তির ভোটও সেরে ফেলেছিলো।

কেনো দেশের জনগনের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে পারা ঐ রাষ্ট্রের পরবর্তী মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হওয়ার প্রথম সফল উদাহরণ। তবে ভোটাধিকার প্রশ্নে বাংলাদেশে তা দীর্ঘদিন ধরে নানা কারণে অনুপস্থিত।

অনেকেই যুক্তি দেন, ভোটের দিন সকালে ব্যালট পাঠালে ভোটের আগের রাত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ব্যালট পেপার ও বাক্স যদি ভোটের আগের রাতে ভোটকেন্দ্রে না রেখে নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রিত হেফাজতেই থাকে, তবে সেই রাত আর ঝুঁকিপূর্ণ থাকে না, বরং ঝুঁকিমুক্ত হয়। এতে অনিয়মের আশঙ্কা, গুজবের সুযোগ এবং অস্বচ্ছতার অভিযোগ অনেকাংশে কমে যায়।

ভোটের দিন সকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে ব্যালট সামগ্রী কেন্দ্রে পৌঁছানো হলে দায়িত্বের সীমারেখা স্পষ্ট হয়। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব পক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত হয়। একই সঙ্গে ভোটারদের মনে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মায় যে ভোট শুরুর আগেই তাদের ভোট নিয়ে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার সুযোগ নেই।

আমরা আশা করছি দীর্ঘদিনের এই পুরানো রুট পরিবর্তন করে নতুন রুটে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বাংলাদেশে দিনের ভোট রাতের প্রথাটি বিলুপ্ত হতে বাধ্য। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কেবল ভোট গ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; ভোটের আগের প্রস্তুতিই নির্ধারণ করে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা। প্রশ্নবিদ্ধ প্রস্তুতি শেষ পর্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ ফলাফলই জন্ম দেয়, যার খেসারত দিতে হয় জনগন, রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রকে।

অতএব দিনের ভোট দিনের আলোতেই হওয়া উচিত। ভোটের দিন সকালে ব্যালট পেপার ও বাক্স কেন্দ্রে পাঠানো কোনো ঝুঁকির সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি নির্বাচনকে ঝুঁকিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জনআস্থাভিত্তিক করার একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। নির্বাচন কমিশনের উচিত এই বাস্তবতা অনুধাবন করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া, যা প্রশ্ন নয়, আস্থা তৈরি করে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Like Our Page