বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন

ইমামের সামাজিক মর্যাদা ও দায়িত্ব

মসজিদ মুসলিম সমাজের প্রাণকেন্দ্র। মদিনার মসজিদে নববী থেকে যাত্রা শুরু হয়েছিল ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্রের। আর মসজিদের মিম্বার থেকে মুসলিম জাতির নেতৃত্ব দিয়েছেন মহানবী (সা.) ও ইসলামের মহান চার খলিফা। তাই মুসলিম সমাজে মসজিদের ইমামের মর্যাদা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন, ‘মহানবী (সা.)-এর ইমামতি ও খুলাফায়ে রাশেদার ইমামতি শাসক ও বিচারকের মতো মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব ছিল।’ (শরহু উমদাতিল ফিকহ, পৃষ্ঠা-১৩৯)

নিম্নে মসজিদের ইমামের মর্যাদা, যোগ্যতা ও দায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।ইমামের সম্মান ও মর্যাদা

ইমামের সম্মান ও মর্যাদা কোরআন ও হাদিস দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত। যেমন—

১. ইমামতি আল্লাহর অনুগ্রহ : ইমাম বা মানুষের ধর্মীয় নেতা হওয়া মহান আল্লাহর অনুগ্রহস্বরূপ।
মহান আল্লাহ ইবরাহিম (আ.)-এর প্রতি তাঁর অনুগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি তোমাকে মানুষের ইমাম বানিয়েছি।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১২৪)

উল্লিখিত আয়াতে যদিও ইমাম দ্বারা সামগ্রিক ধর্মীয় নেতৃত্ব উদ্দেশ্য, তবে এর ভেতর নামাজ ও অন্যান্য ইবাদতও অন্তর্ভুক্ত আছে।

২. প্রার্থিত বিষয় : মুসল্লি ও দ্বিনদার মানুষের ইমাম বা নেতা হওয়া একটি প্রার্থিত বিষয়। পবিত্র কোরআনে মুমিনদের প্রার্থনার বর্ণনা দিয়ে বলা হয়েছে, ‘যারা প্রার্থনা করে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য এমন স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দান করো, যারা হবে আমাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর এবং আমাদের করো মুত্তাকিদের জন্য ইমাম (অনুসরণযোগ্য)।
(সুরা : ফোরকান, আয়াত : ৭৪)

৩. মহানবী (সা.)-এর উৎসাহ : মহানবী (সা.) ইমামতি করার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন। হাদিসে এসেছে, এক ব্যক্তি নবীজি (সা.)-এর কাছে এসে বলল, আমাকে একটি আমলের কথা বলুন, যা আমি করতে পারি। তিনি বললেন, তুমি তোমার গোত্রের ইমাম হও। লোকটি বলল, যদি আমি সক্ষম না হই? তিনি বললেন, তবে তুমি তাদের মুয়াজ্জিন হও। (শরহু উমদাতিল ফিকহ, পৃষ্ঠা-১৩৯)

৪. পরকালে পুরস্কার : যারা মানুষের নামাজের ইমামতি করবে, পরকালে আল্লাহ তাদের পুরস্কৃত করবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Like Our Page