সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রবীণ সাংবাদিকদের অবসর ভাতার আশ্বাস তথ্য মন্ত্রীর প্রশংসনীয় উদ্যোগ রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার কেওয়া পূর্বখণ্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কালিয়াকৈরে খাল খননের মহোৎসব: নেতৃত্বে এমপি মজিবুর চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে ড্রাম ট্রাক চাপায় নিহত থানা যুবদলের আহবায়ক কামাল স্মরণে শোক্ সভা অনুষ্ঠিত শ্রীপুরে শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই স্কুল ছাত্রীর মৃত্যু । চলে গেলেন না ফেরার দেশে এক পুলিশ সদস্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোহনপুরে নিখোঁজের দুইদিন পর শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া। সায়দাবাদ চিশতিয়া সাইদিয়া দরবার শরীফ, জামে মসজিদের ২০০ ফিট উঁচু মিনার নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোদন। মসজিদে মাদকবিরোধী সচেতনতা: কঠোর অবস্থানের বার্তা পুলিশের চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের আমবাড়িয়ায় গতকাল পিটিয়ে বৃদ্ধাকে হত্যার প্রধান আসামি রিকুকে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, নগরীর উন্নয়নে অন্যান্যদের পাশাপাশি বিএনপি নেতা-কর্মীদের সহযোগিতা ও চেয়েছেন

এম, এ কাশেম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :

চট্টগ্রাম মহানগর, থানা ও ওয়ার্ডের সকল শ্রেণী পেশার নাগরিকদের পাশাপাশি বিএনপি’র দায়িত্বশীল নের্তৃবৃন্দ সহ কর্মীদের ও সহযোগিতা চেয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা শাহাদাত হোসেন।
তিনি তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট ৪টি বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছেন। বিষয়গুলো হচ্ছে- কর্পোরেশনকে ভাঙা স্ল্যাব ও ঢাকনাহীন ম্যানহোলের তথ্য ও ছবি প্রদান, এলাকাভিত্তিক ডাস্টবিনের প্রয়োজন হলে কর্পোরেশনকে অবহিত করা, কর্পোরেশনের প্রকল্পের বাইরে থাকা এলাভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কের তালিকা জমা দেয়া এবং খাল-নালা পরিষ্কারে সহযোগিতা করা।
গতকাল শনিবার বিকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর লালখান বাজারের একটি রেস্টুরেন্টে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির নের্তৃবৃন্দ, থানা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, ওয়ার্ড বিএনপি’র আহ্বায়ক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবদের সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ সহযোগিতা চেয়েছেন মেয়র।
এতে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান।
তিনি মেয়রকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করতে ওয়ার্ড ভিত্তিক নেতা-কর্মীদের এক হয়ে কাজ করার একটি রূপরেখা দেন।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ওয়ার্ডে বিএনপি’র কমিটি আছে, সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা ও আছেন। এ ছাড়া মহানগর বিএনপি’র কোনো নের্তবৃন্দ ও থানার সভাপতি-সম্পাদক যদি ওই ওয়ার্ডে বসবাস করেন তাকেও সম্পৃক্ত করতে হবে। সর্বসাকুল্যে ১০-১৫ জনের বা ২০-২৫ জনের একটি তালিকা হবে। এর পর সবাই পুরো এলাকাটা ভিজিট করে দেখেন, উনি (মেয়র) যে সমস্যা গুলোর কথা বলেছেন সে গুলো চিহ্নিত করে লিখিত ভাবে কর্পোরেশনে সাবমিট করেন। পরবর্তীতে মেয়রের সাথে বা ওই ওয়ার্ডে সংশ্লিষ্ট দায়িত প্রাপ্ত যিনি থাকবেন তার সাথে যোগাযোগ করে সমস্যা গুলোর সমাধানের চেষ্টা করবেন। যেনো বর্ষায় চট্টগ্রামবাসী কোনো দুর্ভোগে না পড়েন। এবং ড্রেনে পড়ে যাওয়া সহ অতীতে যে সব দুর্ঘটনা ঘটেছে সে গুলো যেনো আর না ঘটে।
এদিকে সভায় মেয়র ও সভাপতির বাইরে অন্য কোনো নেতাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেয়া হয়নি। এতে অনেকে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত একাধিক বিএনপি নেতা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন, একটি ক্লিন, গ্রিন, হেলদি সিটি সহ নিরাপদ চট্টগ্রাম গড়ার লক্ষ্যে’ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। বর্তমানে কর্পোরেশনে কাউন্সিলর নেই। তাই থানা ও ওয়ার্ডের নের্তবৃন্দ বক্তব্য রাখার সুযোগ পেলে তারা এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরার পাশাপাশি সমাধানেরও পরামর্শ দিতে পারতেন। সবাইকে না হলেও অন্তত: সিনিয়র কয়েক জনকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া যেতো। অন্যদিকে সভার মঞ্চে মহানগর বিএনপি’র সাবেক কমিটির এক নেতার বসে যাওয়াকে ঘিরেও আপত্তি তুলেন অনেকে।
সভায় ডাঃ শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ষাকাল আসছে। গত বছর বর্ষাকাল পাঁচ-ছয় মাস ছিলো, মে মাস থেকে শুরু হয়ে নভেম্বর পর্যন্ত ছিলো। এ বছর জুন থেকেও বর্ষা শুরু হলে সময় বেশি নেই। এজন্য কিছু কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, বর্ষাকালে স্ল্যাব যদি না থাকে, ম্যানহোলে যদি ঢাকনা না থাকে সবচেয়ে বেশি অঘটন ঘটে। জনগণের পাশাপাশি আমাদের নিজেদের পরিবারও হয়তো দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। কাজেই বর্ষাকালে জলবদ্ধতা-এই কনসেপ্টে এসে আমাদের ওয়ার্ডের নের্তৃবৃন্দের কিছু কাজ আছে। কাজ বলতে এই দুই মাস আমরা নালাগুলো ক্লিন করবো। আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমান বলেছেন, ‘প্রতি শনিবার আপনারা নিজ নিজ আঙিনাগুলো ক্লিন করেন’। আঙিনা বলতে আপনার বাসার সামনে নালা থাকতে পারে, ঝোপঝাড় থাকতে পারে, অপরিষ্কার কিছু থাকতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর ওই কথার রেশ ধরে বলব, আপনারা আপনাদের ওয়ার্ডভিত্তিক নের্তৃবৃন্দের মাধ্যমে যে নালাগুলো আছে এবং অপরিষ্কার হয়ে গেছে, এই দুই মাস শুধু আমাদের কাজ হচ্ছে বর্ষার আগে পানি সচল করার জন্য নালাগুলো ক্লিন করে রাখা।
তিনি বলেন, এলাকাভিত্তিক যে স্ল্যাবগুলো ভেঙে গেছে, আপনি দেখতে পাচ্ছেন ভালো স্ল্যাব নেই, এই স্ল্যাবগুলো সুনির্দিষ্টভাবে আপনারা ডিমার্কেশন করে মোবাইলে ছবি পাঠিয়ে দেন বা একটা অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে একটু জমা দেন। যদি ম্যানহোলের ঢাকনা না থাকে সেটা জানান। আপনাদের যদি ডাস্টবিনের সমস্যা হয়, কোন কোন এলাকায় ডাস্টবিন লাগবে সেটাও জানাবেন।
মেয়র বলেন, ডোর টু ডোর বর্জ্য সংগ্রহের জন্য যে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হতো, তা আমরা বাতিল করেছি। এখন চসিকের নিজস্ব কর্মীরাই কাজ করছে। আপনাদের এলাকায় ডাস্টবিনের প্রয়োজন থাকলে বা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে কোনো সমস্যা হলে সরাসরি অবহিত করুন।
শাহাদাত বলেন, রাস্তাঘাট ভেরি ইম্পর্টেন্ট। আমরা কিন্তু এখন রাস্তাঘাটের কাজ করছি। কোথায় কোথায় আপনাদের ইম্পর্টেন্ট রাস্তা বাদ পড়েছে, এটার একটি লিস্ট করেন। কারণ আমরা আরেকটা ডিপিপি করছি। আমাদের অর্থমন্ত্রী ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী দুইজনেই বলেছেন, ‘একটা ডিপিপি রেডি করেন, আমরা হেল্প করতে পরব’।
মেয়র বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এবং এলজিআরডিমন্ত্রীর ঐকান্তিক সহযোগিতায় জলাবদ্ধতা নিরসনে নালা পরিষ্কারের জন্য ২০ কোটি এবং খালের জন্য ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এই অর্থ দ্রুত কাজে লাগিয়ে নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে হবে।
তিনি বলেন, প্রতিটি কাজ একটি সুনির্দিষ্ট ডিসিপ্লিন ও ডেকোরামের মধ্য দিয়ে হতে হবে। কোনো ধরনের ইনডিসিপ্লিন সহ্য করা হবে না। সাংগঠনিকভাবে ওয়ার্ডভিত্তিক তালিকার মাধ্যমে জনসেবা নিশ্চিত করতে হবে। হাতে সময় খুব কম, আগামী ৫৫ দিনের মধ্যে আমাদের এই উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতার কাজগুলো দৃশ্যমান করতে হবে।
সভায় সিনিয়র নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, এম এ আজিজ, এস এম সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দিন, সফিকুর রহমান স্বপন, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, আর ইউ চৌধুরী শাহিন ও ইয়াছিন চৌধুরী লিটন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Like Our Page