বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কোনো বাপের বেটা নেই আমাকে থামাতে পারে : রুমিন ফারহানা হাদিকে হত্যাকাণ্ড : শ্যুটার ফয়সালের ৬৫ লাখ টাকা অবরুদ্ধ ২৪৬টি সিনেমা নিয়ে পর্দা উঠছে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের কোয়েল পাখির ডিমে মিলবে যে উপকার, কারা দূরে থাকবেন সারাদেশে জেঁকে বসেছে শীত, ৪৪ টি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী পরিষদের সেমিনারে শোকাবহ ঘটনায় এক মিনিট নীরবতা গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে, শিক্ষিকাকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা, সাবেক স্বামী গ্রেফতার ভেনেজুয়েলায় হামলা: নিহত বেড়ে ৫৭, সাত দিনের শোক ১৪ বছরের অপেক্ষার অবসান, ঢাকা-করাচি ফ্লাইট ২৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ২১ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার আটক

তিন সন্তান নিয়ে এক মায়ের রুদ্ধশ্বাস লড়াই

মোঃ রানা ইসলাম, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ে তীব্র ঠান্ডায় জরাজীর্ণ এক ঘরে তিন সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন বিলকিস আক্তার নামের এক মা।
হিমালয় ঘেঁষা উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশা। এই তীব্র ঠান্ডায় জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন জরাজীর্ণ এক ঘরে তিন সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন বিলকিস আক্তার নামের এক মা।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের সিন্দুর্না নদীপাড়া গ্রামের এই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মধ্যে স্বামী শারীরিকভাবে অক্ষম হওয়ায় সংসারের পুরো ঘানি টানতে হচ্ছে বিলকিসকে। তার তিন সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে ফয়সাল (১৩) ও মেঝো ছেলে কাউসার (৮) দুজনেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। ছোট মেয়ে জান্নাতুনকে নিয়ে বিলকিসের এই একাকী সংগ্রামের চিত্র অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।
সরেজমিনে দেখা যায়, টিন ও বাঁশের তৈরি জরাজীর্ণ ঘরটির চারপাশ থেকে হু-হু করে ঢুকছে উত্তরের হিমেল বাতাস। বিছানায় সামান্য খড় বিছিয়ে তার ওপর ছেঁড়া এক কম্বল মুড়ি দিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে শিশুরা। এতেও কমছে না শীতের তীব্রতা; ঠান্ডায় প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ছে প্রতিবন্ধী শিশু দুটি। রাতে ঠান্ডা বাতাসে শিশুদের কান্না আর কাশির শব্দে ঘুম নেই বিলকিসের চোখে। সারারাত সন্তানদের পাশে বসে নির্ঘুম রাত কাটান তিনি।
নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে বিলকিস আক্তার বলেন, মা হয়ে সন্তানদের এই কষ্ট আমি সহ্য করতে পারি না। দুইটা বাচ্চা প্রতিবন্ধী, ওরা ঠান্ডা একেবারেই সহ্য করতে পারে না। রাতে যখন কাঁপতে থাকে, তখন চোখের পানি ফেলা ছাড়া আমার আর কিছুই করার থাকে না। ঘরে খাবার নেই, সাদা ভাত খেয়ে কোনোমতে দিন পার করছি। আশপাশের মানুষ সাহায্য না করলে হয়তো না খেয়েই মরে যেতাম
স্থানীয় প্রতিবেশী বিলকিসের পরিবারের কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসা- প্রতিটি মৌলিক চাহিদার তীব্র অভাব তাদের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Like Our Page