কামাল উদ্দিন জয়, কক্সবাজার প্রতিনিধি:
জেলাবাসীর জরুরি চিকিৎসা সেবার একমাত্র প্রতিষ্ঠান কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ডে ডাক্তার সংকট, সেই সংকটের সুযোগে রাত গভীর হলেই রেফার করে সেই রোগীদের বাহিরের প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে মোটা অংকের টিম চার্জ আদায়ের মাধ্যমে জমজমাট সিজার ব্যবসা করে যাচ্ছেন কথিপয় চিকিৎসক। তাদের দাপটে প্রতিবাদ করার সাহস করেন না কেউ। এই শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কারণে অসহায় হয়ে পড়েছে দুর দুরান্ত থেকে আসা রোগীরা, অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে সদর হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ড। দিনের ২ টার মধ্যে যা সিজার হয় তারপর কেন সিজার হয়না।।ব্যাপক তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, জরুরি মুহুর্তে আসা জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবার শেষ ভরসাস্থল জেলা সদর হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ড। রাত যত গভীর হয় ততই শুরু হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার কিংবা রোগীদের বলা হয় রোগীর অবস্থা খারাপ রাতে অপারেশন হবে না।তখন রোগী ও রোগীর আত্বীয় স্বজন মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে পাশের বেসরকারি হাসপাতাল গুলোতে ছুটতে শুরু করে এমন অবস্থার অপেক্ষায় থাকে চিহৃিত দালাল চক্র যে চক্র রোগীদের ভাগিয়ে নিয়ে যান বেসরকারি হাসপাতালে সেখানেই শুরু হয় রোগীদের বিশাল অংকের টাকা গুণার পালা।হসপিটালের সিট ভাড়া, মেডিসিন ছাড়াও নরমাল ডেলিভারীতে ১০/১৫ হাজার ও সিজারে ২০/৩০ হাজার পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছেন কথিপয় চিকিৎসকরা।কারণ সেখান থেকে একটি ভাগ দিতে হয় দালালদের যার বহু ডকুমেন্টস এই প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। সোমাইয়া ডেলিভারির ব্যথা নিয়ে দিনের বেলা ভর্তি হয় সদরের গাইনী ওয়ার্ড এ রাতে খুবই ব্যথা হয়। রাত ২ টার পর সংশ্লিষ্টরা বলেন রোগীর অবস্থা খুব খারাপ হয় বাহিরে কোন হাসপাতালে নিয়ে যান নয়তো কিছু হলে আমরা দায়ী নয়।তখন এক মহিলা দালালের মাধ্যমে পাশের এক ক্লিনিক এ ভর্তি করার পর পরই নরমাল ডেলিভারী হয়।তারপরও জুনিয়র এক ডাক্তারের নামে বিল করা হয় নরমাল ডেলিভারী চার্জ ১৫০০০। পরে এই প্রতিবেদক সকল ডকুমেন্টস হাতে নেয়ার পর অনেক বুঝিয়ে ১২০০০ দিয়ে কোন মতে বিদায় নেন সোমাইয়া।এ রকম শত সোমাইয়া প্রতিদিন হয়রানির শিকার হলেও জেলার সুশীল সমাজও রাজনৈতিক নেতারা এগিয়ে আসছেন না সংকট মোকাবেলায় ভাংতে পারছেন না সিন্ডিকেট, চালু করা হচ্ছে না রাতের বেলা জরুরি ডেলিভারি ব্যথা নিয়ে আসা মাদের সিজার। কথা হয় কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা: সোহেল বসের সাথে তিনি বলেন, মেডিকেল কলেজের গাইনীর প্রায় পদ শুণ্য, সদরেও একই অবস্থা। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পর্যাপ্ত ডাক্তার থাকলে তাদের দিয়ে সদরে চিকিৎসা ও অপারেশন করানো সম্ভব। হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, গাইনী ওয়ার্ড এ ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক গাইনী ডাক্তার শামীম আরা। ডা: নীনা জাহানসহ ৫/৬জন গাইনী ডাক্তার রয়েছেন যেকারণে অফিস সময় দুপুর ২ টার পর হয়না আর কোন সিজারিয়ান অপারেশন। তাদের দাবী এনেস্থিসিয়া ডাক্তার না পাওয়ায় রাতের বেলা তারা সিজার করতে পারেন না। সারা দিন ভর্তি হওয়া রোগীদের রেফার শুরু হয় রাতে বিশেষ করে ১২ টার পর। তখন রোগীরা বিপদ মুহুর্তে দিশে হারা হয়ে ছুটে যান বে সরকারি হাসপাতাল গুলোত যাওয়া পথে তাদের সাথে যুক্ত হয় কিছু চিহ্নিত দালাল যাদের সাথে রয়েছে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সাথে যোগাযোগ তারা নিয়ে ভর্তি করানোর পর সদরের সেই সকল ডাক্তাররাই বাহিরে সিজার করে তার মধ্যে সদরের গাইনী ওয়ার্ড ২০জানুয়ারি ২৬ প্রসব ব্যাথা নিয়ে সদর ভর্তি হন উখিয়ার পাগলির বিলের হাছিনা।একই দিন রাত ১:৩০ টায় তাকে রেফার করা হয় চমেকে ঠিকই এই রোগী চক্রে পড়ে ভর্তি হয় সী সাইট হসপিটালে সেখানে গিয়ে সিজার করেন সদরের গাইনী ওয়ার্ড এর জনৈক ডাক্তার। আদায় করে নেন ২২০০০ টিম চার্জ এভাবেই চলছে গভীর রাতে রেফার করে জমজমাট সিজার বাণিজ্য কিন্তু দেখার কেউ নেই। এমন বেশ কিছু তথ্য এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। সদরে যেই সিজার হবেনা বলে রেফার করা হয় সেই সিজার বাহিরে কেমনে করে এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের। স্থানীয় ও রোহিঙ্গা মিলে লক্ষ রোগীদের জন্য জেলার এক মাত্র জেলা সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত গাইনী ডাক্তার না থাকাটা দুঃখ ও হতাশা জনক। গাইনী ওয়ার্ড এর অচলাবস্থা ও গভীর রাতে রোগী রেফার বিষয়ে জানতে হাসপাতালের সুপার ডা: মং টিং ক্রো সাথে কথা বললে তিনি জানান বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেই বিবেচনায় ইতিমধ্যে এনেস্থিসিয়া বিভাগের প্রধান বরাবর ২৪ ঘন্টা অপারেশন ব্যবস্থা চালু করার বিষয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন দায়িত্বশীল চিকিৎসক জানান, এনেস্থিসিয়া বিভাগে ৩ জন মেডিকেল অফিসার ছিল সেখানে একজন সহকারী অধ্যাপক ও আরেকজন জুনিয়র কনসালটেন্ট হয়ে আবাসিক মেডিকেল অফিসার হিসেবে কাজ করছে। আর মাত্র ১ জন দিয়ে ২৪ ঘন্টা ডিউটি করানো সম্ভব নয়। জেলা রোগী কল্যাণ সমিতির সাংগাঠনিক হারুনুর রশিদ বলেন, গাইনী ওয়ার্ড এর ডাক্তার সংকটের বিষয়টি আমরা অবগত আছি।তবে সংকট আগের চেয়ে কম। সংকট কাটাতে শুণ্য পদ পুরণের চেষ্টা করা হবে। সিভিল সার্জন ডা: মোহামুদুল হকের সাথে কথা বললে তিনি অকপটে ডাক্তার সংকটের বিষয়টি সীকার করেন এবং রাত ১২ টার পর কোন বিশেষজ্ঞ গাইনী ডাক্তার না থাকার বিষয়টি অবগত আছেন বলে জানান।তিনি বলেন দালালদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে।দালালদের বিষয়ে কেউ অভিযোগ না করায় চিহৃিত করা যাচ্ছে না।তাই গোয়েন্দা নজরদারীর মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবী সুশীল সমাজের। জেলাবাসীর প্রাণের দাবী সদর হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ড এ শুণ্য পদের বিপরীতে ডাক্তার পদায়ন, এনেস্থিসিয়া ডাক্তার পদায়নসহ রাতের বেলা সিজার চালুসহ কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন সুশীল সমাজ।