এম, এ কাশেম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় স্বর্ণ নিয়ে দাম্পত্য কলহের জের ধরে সংসারে বনিবনা না থাকা শশুর বাড়ি এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ওই গৃহবধূর পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী, শ্বশুর ও শ্বাশুড়ি মিলে তাকে নির্যাতন করে আসছিলেন তাকে ।
২৯ মার্চ (রোববার) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের তৈলারদ্বীপ গ্রামে স্বামীর বসতঘর থেকে জিন্নাত আরা (২৭) নামে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মৃত্যবরণ কারী জিন্নাত আরা এক- ই জেলার পাশ্ববর্তী বাঁশখালী উপজেলার জলদি মিয়ার বাজার এলাকার মোঃ হোসেনের মেয়ে। গত বছর দুয়েক আগে তিনি একই গ্রামের রোলিং মিলের শ্রমিক মো.ষঃ ওমর ফারুক (৩১) এর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে আট মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক দিন আগে বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়িতে ফেরেন জিন্নাত আরা। এরপর স্বর্ণ বন্ধক রাখা নিয়ে স্বামীর সাথে তার কথা কাটাকাটির রেশ ধরে বিরোধ চলে আসছিলো।
তার ধারাবাহিকতার ঘটনার দিন সকালে পূর্বের মতো কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তিনি আত্মহত্যা করার হুমকি দেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
পুলিশ জানায়, ঘটনার আগে জিন্নাত আরা হোয়াটসঅ্যাপে আত্মীয়স্বজনকে বার্তা পাঠিয়ে স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করেন। পরে স্বামী বাইরে গেলে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে ওড়না পেঁচিয়ে সিলিংয়ের সাথে ঝুলে পড়েন বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বামী ফিরে এসে দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে টিন খুলে ভেতরে ঢুকে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান এবং পুলিশে খবর দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিছানায় শোয়ানো অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের থুতনি ও গলায় দাগ রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
ঘটনার পর স্বামী ওমর ফারুককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়া হয়েছে।
নিহতের বোন হাসনা আক্তার বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার বোন মেসেজ দিয়ে নির্যাতনের কথা জানিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে যৌতুক সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে নির্যাতন করে আসছিলো বলে ও অভিযোগ করেন তিনি।
মৃতা জিনাতের মামা জয়নাল আবেদীন দাবি করেন, এটি আত্মহত্যা নয়, বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার ভাগনির মুখ ও গলায় দাগ রয়েছে।’
তার খালাতো ভাই ওবাইদুল মোস্তফা আজাদ বলেন, বিয়ের সময় দেয়া স্বর্ণ গত মাসে বন্ধক রেখে স্বামীর ভাইয়ের জন্য বাজারে দোকান নির্মাণে অর্থ জোগাড় করা হয়। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ চলছিলো তাদের মধ্যে।
তিনি আরও বলেন, স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে আসামি করে আত্মহত্যায় প্ররোচণার মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘প্রাথমিক ভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে।
তবে, নিহতার পরিবার নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছে বিধায় বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মামলার সূত্র ধরে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ও জানান দেন ওসি জুনায়েদ চৌধুরী।’