এম, এ কাশেম চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন দুই সহকারী প্রক্টর। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তারা দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
২৯ মার্চ (রবিবার) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে এ অব্যাহতিপত্র পাঠানো হয়।
বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
অব্যাহতি নেয়া দুই শিক্ষক হলেন মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক বজলুর রহমান ও উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক পারভীন আক্তার।
২০২৪ সালের ২৩ মার্চ তারা সহকারী প্রক্টর পদে দায়িত্ব পেয়েছিলেন। এর মধ্যে অধ্যাপক বজলুর রহমান গত ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রক্টর কার্যালয়ে অব্যাহতি পত্র জমা দিয়েছিলেন।
তবে, তা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পাঠানো হয়নি। রবিবার পারভীন আক্তার পদত্যাগ পত্র জমা দেয়ার পর দু’টি এক সাথে প্রক্টর কার্যালয় থেকে রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
অব্যাহতির বিষয়ে অধ্যাপক বজলুর রহমান বলেন, ‘অধ্যাপক হিসেবে আমার ব্যক্তিগত ও বিভাগীয় নানা দায়িত্ব রয়েছে। গবেষণার কাজ ও বিভাগীয় পরীক্ষা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালনের কারণে সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করা সম্ভব হচ্ছিলো না।
এ ছাড়া আমি শহরে থাকি, যার ফলে দায়িত্ব পালনে সমস্যা হচ্ছিলো। এ কারণে অব্যাহতি পত্র দিয়েছি।’
প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, ‘দুই সহকারী প্রক্টর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে অব্যাহতি চেয়েছেন। বজলুর রহমান ফেব্রুয়ারিতে আবেদন করলেও এতো দিন তা রেজিস্ট্রার অফিসে পাঠানো হয়নি। প্রক্টরিয়াল বডির কাজের চাপের কারণে বিলম্ব হয়েছে। আজ দুই জনের অব্যাহতিপত্র এক সাথে রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পবিত্র রমজানের আগেই অব্যাহতি পত্র জমা দেয়ার বিষয়টি শুনেছি। তবে, এখনও রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে আমার কাছে কোনও পত্র পৌঁছায়নি।’
প্রক্টর কার্যালয়ের সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর ২৩ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই জন সহ-উপাচার্য নিয়োগের পাশাপাশি পাঁচ সহকারী প্রক্টর নিয়োগ দেয়া হয়। তাদের মধ্যে অধ্যাপক বজলুর রহমান ও অধ্যাপক পারভীন আক্তারও ছিলেন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে তাদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিলো।
বর্তমানে ছয় শিক্ষক সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করছেন। তারা হলেন- দর্শন বিভাগের অধ্যাপক কোরবান আলী, রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আককাছ আহমেদ, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাঈদ বিন কামাল, ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক নুরুল হামিদ, নাট্যকলা বিভাগের প্রভাষক খাইরুল ইসলাম ও দর্শন বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ মীর হোসেন মজুমদার।