এম, এ কাশেম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
গ্রামীণ সৌন্দর্য এবং ঐতিহ্যবাহী বলীখেলা যখন প্রায় বিলুপ্তির পথ তখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক গ্রামগঞ্জে খেলাধুলাকে প্রাধান্য দেয়ার নির্দেশনাক সম্মান জানিয়ে উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ৬ নং ইছাখালী ইউনিয়নের টেকেরহাট এলাকার বিশাল চর-জমিতে ৪ এপ্রিল শনিবার বিকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে দীর্ঘ ঐতিহ্য বাহী বলীখেলা। উক্ত বলীখেলায় স্থানীয় এবং বিভিন্ন স্থান থেকে আগত অর্ধশতাধিক বলী খেলায় একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমে পড়ে।
তবে, খেলার প্রধান আকর্ষণ ছিলো-দেশের সর্বাধিক বলীখেলার আসর চট্টগ্রামের সিআরবি’র সিরিষতলায় বছরকে বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসা ‘জব্বারের বলীখেলা’র চলতি চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লার বাঘা শরিফ। তার প্রতিদ্বন্দ্বি হয়ে অংশ নেয় ফেনীর সোনাগাজীর মোশাররফ বলী।
সময় কম দেয়ার কারণে কেউ কাউকে পরাস্ত করতে না পারায় খেলা পরিচালনা কমিটি বাঘা শরিফ ও মোশাররফ এর মধ্যেকার খেলার প্রথম পুরস্কার মোটরসাইকেলের কাউকে না দিয়ে খেলা স্থগিত করে রাখে। এ নিয়ে দেশের সর্বাকর্ষণীয় চট্টগ্রামের ‘জব্বারের বলীখেলা’র চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লার বাঘা শরিফ তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন- একে তো সময় কম দিয়ে খেলা পরিচালনা কমিটি চরম বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। অপরদিকে স্থানীয় কিছু লোকজন দিয়ে হৈ চৈ বাধিয়ে আমার নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে পুরস্কার পাওয়া থেকে বঞ্চিত করেছে।
অনুরূপ ভাবে রানার্স আপ হওয়ার সম্ভাব্য সৌভাগ্যবান জব্বারের বলীখেলায় পর পর ২ বারের চ্যাম্পিয়ন (সাবেক) হওয়া রাশেদ মাল ও এক- ই অভিযোগ করে তার প্রাপ্য দ্বিতীয় পুরস্কার ফ্রিজ পাওয়া থেকে বঞ্চিত করে খেলা স্থগিত করা হয়েছে।
প্রাসঙ্গিকক্রমে খেলা পরিচালনা কমিটির আহবায়ক আবদুল্লাহ আল নোমান তাদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন-খেলা পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত- ই চুড়ান্ত। নির্ধারিত সময় অতিক্রম করে তো আর কাউকে খেলতে দেয়া যায় না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ কাউকে পরাস্ত করতে পারেনি। এটা তো খেলা পরিচালনা কমিটির দোষ নয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- মীরসরাই উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন, বিশেষ অতিথি ছিলেন ৩ নং জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাসুকুল আলম সোহান, ৬ নং ইছাখালী ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মাজাহার চৌধুরী, যুগ্ম আহবায়ক মঞ্জুরুল হক প্রমুখ।
খেলার সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন-চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এবং খেলা পরিচালনা কমিটির আহবায়ক আবদুল্লাহ আল নোমান।