ভেনেজুয়েলার উপকূলের অদূরে একটি মাদক পাচারকারী জাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার চালানো এই হামলায় চারজন নিহত হয়েছে বলে পেন্টাগন জানিয়েছে
পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে তিনি ইউএস সাউদার্ন কমান্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সঙ্গে যুক্ত একটি মাদক পাচারকারী জাহাজের ওপর প্রাণঘাতী হামলার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘এই হামলায় জাহাজে থাকা চারজন মাদক-সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে এবং অভিযানে কোনো মার্কিন সেনা আহত হয়নি।’
হেগসেথ আরও যোগ করেন, ভেনেজুয়েলার উপকূল সংলগ্ন আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই হামলা চালানো হয়। জাহাজটি বিপুল পরিমাণ মাদক পরিবহন করছিল, যা আমেরিকায় পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে চালানো এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ হামলা। হেগসেথ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমেরিকান জনগণের ওপর হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছেন, এই হামলার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ মারাত্মক মাদক যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানো ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। তার মতে, ২৫ থেকে ৫০ হাজার মানুষকে হত্যা করার মতো পর্যাপ্ত মাদকসহ একটি নৌকাকে মার্কিন ভূখণ্ডে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট শুক্রবার জানান, বিদেশে মার্কিন স্বার্থ রক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্বের অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার মাদক কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন।
ট্রাম্প আন্তর্জাতিক মাদক কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন কি না এবং এর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে লেভিট বলেন, ‘সর্বাধিনায়ক এবং পররাষ্ট্র সম্পর্ক পরিচালনার প্রধান নির্বাহী হিসেবে সাংবিধানিক কর্তৃত্বের অধীনেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।’ তিনি আরও জানান, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিশ্চিত করেছে যে, জাহাজগুলো সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত সংগঠনগুলোর সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ মাদক পাচার করছিল।
সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে একটি নৌবহর মোতায়েন করার পর ট্রাম্প প্রশাসন এবং ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, অপরাধী চক্র ও মাদক পাচার মোকাবিলায় এই বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া, মাদুরোকে গ্রেপ্তারে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ৫০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করেছে।