আল-আমিন
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় ধনু নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে ফসলি জমি বিলীন হওয়ার পাশাপাশি নদীতীরবর্তী কয়েকটি গ্রাম এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বালিখোলা ফেরিঘাট সংলগ্ন সূতারপাড়া গ্রামের সামনে ধনু নদীতে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। প্রতিদিন শত শত নৌকায় করে নদী থেকে বালু তুলে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, মাছ ধরার জন্য নদী ইজারা নেওয়ার আড়ালে একটি প্রভাবশালী চক্র এ অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তারা একাধিক ড্রেজার বসিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করছে, যার ফলে নদীর তলদেশ গভীর হয়ে তীরবর্তী এলাকাগুলোতে ভাঙন তীব্র হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, বর্ষা মৌসুম শেষে নদীর তীরবর্তী জমিতে তারা আলু, ভুট্টা ও মরিচসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করতেন। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলনের কারণে এসব জমিতে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক জমি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে তারা আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এ কাজে জড়িত চক্রটি অত্যন্ত প্রভাবশালী। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং হামলার হুমকি দেওয়া হয়। ফলে অনেকেই ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না।
এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ধনু নদীর ভাঙনে সূতারপাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম অদূর ভবিষ্যতে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে হাজারো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদীভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপ নিতে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।