নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর :
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কাশিমপুর থানাধীন মাধবপুর বরিশালের টেক এলাকায় সরকারি খাস জমি দখলের মহোৎসব শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট বাঘবেড় মৌজার ১ নং খতিয়ানের আরএস ৫৯ থেকে ৬৮ দাগ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ বিঘা সম্পত্তি দখলে নিয়ে স্থায়ী স্থাপনা ও ঘরবাড়ি নির্মাণ করছে। একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ এবং ভূমি অফিসে বারবার অভিযোগ সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে নীরব রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
দখল বাণিজ্যের নেপথ্যে যারা
অনুসন্ধানে জানা যায়, বরিশালের টেক এলাকার চিহ্নিত দালাল সেলিমের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এই দখল বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে। এই চক্রের মদদে হেলাল মিয়া ইতিমধ্যেই সরকারি জমিতে তার বাড়ির নির্মাণ কাজ শেষ করেছেন। বর্তমানে শাহীন, সাগর ও বরকত নামের ব্যক্তিরা দ্রুতগতিতে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সর্বশেষ সোহাগ নামের এক ব্যক্তিও নতুন করে নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সিন্ডিকেটের দাপটে জিম্মি এলাকাবাসী
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভূমিদস্যু সেলিম ও হেলাল বাহিনীর ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না। সেলিমের মাধ্যমেই মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে খাস জমিতে ঘর তোলার ‘পারমিট’ পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় কতিপয় নেতার যোগসাজশেই এই বিশাল অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সিন্ডিকেটটি।
প্রশাসনের ‘অস্তিত্বহীন’ মামলা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য
খাস জমি দখল রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। কাশিমপুর ভূমি অফিসের নায়েব ওয়াজেদ আলীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় কাশিমপুর থানায় মামলা হয়েছে। তবে থানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত হেলাল, শাহীন, সাগর বা বরকতের নামে খাস জমি দখল সংক্রান্ত কোনো মামলার অস্তিত্ব নেই। ভূমি কর্মকর্তার এমন বিভ্রান্তিকর তথ্যে প্রশাসনের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিপন্ন খাস জমি, উদ্ধারের দাবি
স্থানীয় ভূমি অধিকার কর্মীরা বলছেন, বাঘবেড় মৌজার এই বিশাল পরিমাণ সরকারি জমি এভাবে বেহাত হতে থাকলে ভবিষ্যতে সরকার উন্নয়নমূলক কাজের জন্য কোনো জায়গা পাবে না। ভূমিদস্যুদের থাবায় সরকারি সম্পদ এখন ব্যক্তি সম্পত্তিতে পরিণত হচ্ছে।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে এই ৩০০ বিঘা খাস জমি ভূমিদস্যুদের কবল থেকে উদ্ধার করা হোক এবং সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।