মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আগামী কাল থেকে শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়া সকল পরিক্ষার্থীদের জন্য জিবিসি পরিবারের পক্ষ থেকে শুভ কামনা সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়নে মন্ত্রীর বক্তব্য ইতিবাচক: বিএমএসএফ করিমগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলনে ফসলি জমি বিলীন, ভাঙনের মুখে গ্রাম হারানো মোবাইল ফিরে পেলেন মালিকরা, কিশোরগঞ্জ পুলিশের সাফল্য চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে ব্যবসায়ীকে মারধর করে দেড় লাখ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা চট্টগ্রাম শহরের ‘ফুসফুস’ খ্যাত সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের ‘নতুন উদ্যোগের’ প্রতিবাদে মানববন্ধন চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে ট্রেন থেকে পড়ে কিশোর নিহত চট্টগ্রাম ১ মীরসরাই আসনের এমপি নুরুল আমিনকে প্রধান অতিথি বানিয়ে-সম্মাননা দিয়ে অতিতের সব কিছু বৈধ করে নিচ্ছে একটি মহল! গাজীপুরে দুই বাসের রেষারেষিতে সুপারভাইজারের মৃত্যু: মরদেহ সরালো মালিকপক্ষ! প্রবীণ সাংবাদিকদের অবসর ভাতার আশ্বাস তথ্য মন্ত্রীর প্রশংসনীয় উদ্যোগ

ঠোঁটে আটকে গেলো মাছ ধরার বড়শি: নিজেই হাসপাতালে এলো বুনো পাখিটি

জার্মানির ব্রেমেন। একটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কাঁচের দরজায় হঠাৎ ঠক ঠক শব্দ। ভেতরে ব্যস্ত চিকিৎসক–নার্সরা প্রথমে ভেবেছিলেন—হয়তো বাতাসে উড়ে আসা কিছু লেগেছে। কিন্তু শব্দ থামছে না। দরজার ওপাশে কেউ যেন মরিয়া হয়ে ঠোকরাচ্ছে। কাছে গিয়ে তাকাতেই তারা দেখলেন, একটি কালো জলচর পাখি, লম্বা গলা, ধারালো ঠোঁট… আর সেই ঠোঁটেই গেঁথে আছে তিন-কাঁটা মাছ ধরার বড়শি। কাঁচের দরজায় বারবার ঠোকর মেরে সে যেন জানিয়ে দিচ্ছিল—‘আমাকে বাঁচান।’হাসপাতালের কর্মীরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেন। ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় পাখিটিকে ধরে সতর্ক হাতে বড়শিটি খুলে ফেলা হয়, ক্ষত পরিষ্কার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে হাসপাতাল চত্বরে থাকা পার্ক এলাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়—আবার প্রকৃতির কোলে।

ফায়ার সার্ভিসের বিবৃতিতে বলা হয়, সাধারণত পানকৌড়ি মানুষের কাছে আসে না। তারা স্বভাবতই লাজুক ও দূরত্ব বজায় রাখা পাখি। কোনো আহত পানকৌড়ি যদি মানুষের দ্বারস্থ হয়, সেটি চরম বিপদের ইঙ্গিত—সে তার স্বাভাবিক ভয় হারিয়ে ফেলেছে। অর্থাৎ যন্ত্রণাই তাকে ঠেলে এনেছে মানুষের দরজায়।

এই ঘটনায় বিস্ময় জাগায় আরেকটি প্রশ্ন, পাখিটি কি সত্যিই সাহায্য চাইতে এসেছিল? প্রাণীবিজ্ঞানীরা বলেন, বন্য প্রাণী সচেতনভাবে ‘হাসপাতাল’ চেনে না। কিন্তু তীব্র যন্ত্রণা ও বিভ্রান্তির মুহূর্তে তারা আলো, শব্দ বা মানুষের উপস্থিতির দিকে এগোতে পারে। কাঁচের দরজায় নিজের প্রতিবিম্ব দেখে বা ভেতরের আলো দেখে পাখিটি হয়তো ঠোকরাতে শুরু করেছিল। কিন্তু মানুষের চোখে তা যেন এক মরিয়া আবেদন—বাঁচার আকুতি।
ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই অনেকেই লিখেছেন, মানুষের দরজায় এসে কড়া নাড়ল এক আহত পাখি। শহরের ব্যস্ত হাসপাতাল আর এক বন্য প্রাণীর হঠাৎ সাক্ষাৎ যেন মনে করিয়ে দিল—আমাদের অবহেলা কারও জীবনে কত বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। একটি ছোট বড়শি, ফেলে রাখা এক টুকরো সুতা—সেটাই হয়ে উঠতে পারে মৃত্যুফাঁদ।

ভাগ্য ভালো, সেই রাতে কাঁচের দরজার শব্দ কেউ উপেক্ষা করেননি। চিকিৎসক-ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত উদ্যোগে পাখিটি আবার উড়তে পেরেছে। হাসপাতালের পার্কে ছেড়ে দেওয়ার পর সে ডানা ঝাপটে দূরে সরে যায়—সম্ভবত নদীর দিকে, নিজের জগতে।
এই ঘটনা আমাদের জন্যও এক নীরব বার্তা রেখে যায়। প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কেবল দূর থেকে উপভোগের নয়; দায়িত্বেরও। একটি বড়শি যেখানে এক পাখির ঠোঁটে গেঁথে যায়, সেখানে মানবিকতা আর সচেতনতার ছোট্ট উদ্যোগই পারে জীবন ফিরিয়ে দিতে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Like Our Page