এম, এ কাশেম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে অনাকাঙ্ক্ষিত হাতাহাতির ঘটনা সম্পর্কে তথ্যমন্ত্রীর অনুরোধ উপেক্ষা করে সাংবাদিক ইউনিয়ন’র সভাপতির উস্কানি মুলক বক্তব্য চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী
(Reaz Hyder Chowdhury) যাকে এ প্রতিবেদক ব্যাক্তিগত ভাবে ভালো জানতেন বৈ খারাপ জানতেন না। আর সেই মোতাবেক গত ৪ মার্চ (বুধবার) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আলোকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে যার যার ইচ্ছে মাফিক (মন গড়া) লেখা লিখে যাচ্ছে।আর ওই রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ও কিছু না কিছু লিখে যাচ্ছেন।
তার লেখার উপর শালিনতা বজায় রেখে সত্যতার নিরীখে দু’একটি কথা বলেছিলেন এ প্রতিবেদকভ। আর তাতে শালিনতা টপকিয়ে তার লেখার উত্তর দিতে গিয়ে তিনি কেমন ধরনের ভাষা ব্যবহার করলেন? বিগত আওয়ামী লীগের সময়ে গর্তে ঢুকে থাকার কথা এ প্রতিবেদকের উদ্দেশ্যে বলতে গিয়ে তিনি (রিয়াজ হায়দার চৌধুরী) নিকৃষ্ট একজন সাংবাদিক নামের ব্যাক্তির পরিচয় দিলেন! আওয়ামী জামানায় বিএনপি সমর্থিত পত্রিকা/টিভির সাংবাদিক হিসেবে কে, কোন পজিশনে থাকতে পেরেছিলো তা কি ওই রিয়াজ হায়দার চৌধুরীর মতোদের জানা আছে? আওয়ামী জামানায় এ প্রতিবেদকের ওপর পর পর ৪ বার হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত আহত করা হয়েছিলো, লাখ টাকার জিনিস কেড়ে নেয়া হয়েছিলো, হুমকি ধামকি ছিলো নিত্য খোরাক। হামলার ঘটনার সময় ২/৩জন সাংবাদিক উপস্থিত থেকে ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়নি! অন্যান্য প্রায় সব সাংবাদিকরা জানার পর ও মুখে কলুপ এঁটে থেকে ছিলো!! পুরো উত্তর চট্টগ্রামে এ প্রতিবেদক দৈনিক দিনকাল পত্রিকার মীরসরাই-উত্তর চট্টগ্রাম প্রতিনিধি এবং জিবিসি টিভি চ্যানেল এর চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধির মতো কোনো সাংবাদিক ওই রকম অবস্থার সম্মুখীন হয়েছীলো? আর রিয়াজ হায়দার চৌধুরী বলছেন গর্তে ঢুকে থাকার কথা!? চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের কথা বাদ দিলাম। চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি শামসুল হক হায়দারী ভাই এবং শহিদুল ইসলাম ভাই উল্লেখ যোগ্য। তাদের সময়ে তো ওই রকম কোনো বিতর্ক ছিলো না। তাহলে এখন কেনো?
বলবেন কি চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী?
চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতি সহ কমিটির আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী জামানায় দোসরীয়তার অনেক অভিযোগ রয়েছে। এবং তা ওই দিন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতাদের সাথে মতবিনিময় করার পর কে বা কাদের ইন্ধনে সেখানে হাতাহাতির মতো ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্ম দিয়ে সাংবাদিকতা পেশা এবং প্রেসক্লাবের মান ও ক্ষুন্ন করার সাথে জড়িত ছিলো তাদেরকে খুঁজে বের করে সাংবাদিকতা পেশার নামে সন্ত্রাসী ভুমিকার স্বাদ মিটিয়ে দেয়ার দরকার রয়েছে বলে চট্টগ্রামের ন্যায়-নীতি পরায়ন একাধিক সাংবাদিক সহ অন্যান্যরা মনে করেন।
এ দিকে ঘটনার বিষয়ে চট্টগ্রামে অবস্থান রত: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সকল সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতাদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, প্রেসক্লাব সাংবাদিক ও প্রেসক্লাবের নিয়মনীতি গত ভাবে চলবে। এবং তা করবে সাংবাদিকরাই। এর বাইরে কেউ ভিন্ন চিন্তা করে কিছু করার মানসিকতা দেখানোর চেষ্টা করলে তা সাংবাদিকতার নীতি মালার পরিপন্থী হবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর এমন শান্তশিষ্ট ও জ্ঞান-বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন পরামর্শ মুলক যুক্তিযুক্ত কথার জন্য চট্টগ্রামের অধিকাংশ সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতা এবং অন্যান্য পেশাজীবীরা মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।