সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আগামী কাল থেকে শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়া সকল পরিক্ষার্থীদের জন্য জিবিসি পরিবারের পক্ষ থেকে শুভ কামনা সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়নে মন্ত্রীর বক্তব্য ইতিবাচক: বিএমএসএফ করিমগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলনে ফসলি জমি বিলীন, ভাঙনের মুখে গ্রাম হারানো মোবাইল ফিরে পেলেন মালিকরা, কিশোরগঞ্জ পুলিশের সাফল্য চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে ব্যবসায়ীকে মারধর করে দেড় লাখ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা চট্টগ্রাম শহরের ‘ফুসফুস’ খ্যাত সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের ‘নতুন উদ্যোগের’ প্রতিবাদে মানববন্ধন চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে ট্রেন থেকে পড়ে কিশোর নিহত চট্টগ্রাম ১ মীরসরাই আসনের এমপি নুরুল আমিনকে প্রধান অতিথি বানিয়ে-সম্মাননা দিয়ে অতিতের সব কিছু বৈধ করে নিচ্ছে একটি মহল! গাজীপুরে দুই বাসের রেষারেষিতে সুপারভাইজারের মৃত্যু: মরদেহ সরালো মালিকপক্ষ! প্রবীণ সাংবাদিকদের অবসর ভাতার আশ্বাস তথ্য মন্ত্রীর প্রশংসনীয় উদ্যোগ

চট্টগ্রামের আনোয়ারার আশ্রয় প্রকল্পের ঘরে ওড়নায় ঝুলন্ত মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ, পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা

এম, এ কাশেম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :

আনোয়ারার আশ্রয়ণ প্রকল্পের নিজ ঘরে সুমি আকতার (২১) ও তার দুই বছরের শিশু কন্যা ওয়াজিহা আক্তার নামে দুই মা-মেয়ের ওড়নায় পেঁচানো ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
১৭ মার্চ (মঙ্গলবার) বিকেল সাড়ে পাঁচ টার দিকে আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক আশ্রয়ণ প্রকল্পে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সিএনজি চালক মোহাম্মদ মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়েছে পুলিশ। নিহতা সুমি আক্তার পাশ্ববর্তী কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের মৃত নুরুল ইসলামের মেয়ে। তার স্বামী মিজান এক-ই জেলার পটিয়া উপজেলার কৈয়াগ্রাম মালিয়ারা এলাকার মোহাম্মদ আলীর পুত্র।
সূত্র জানায়, কয়েক বছর থেকে তারা পরিবার নিয়ে উক্ত এলাকার গুচ্ছগ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করে আসছিলেন। ঘটনার পর সুমি আক্তারের শাশুড়ি পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহতা সুমির দুলাভাই মোঃ এনামুল হক সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘তিন বছর আগে সুমির সাথে মিজানের পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। গুচ্ছগ্রামে মা ও স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মিজান বসবাস করে আসছিলেন। বিভিন্ন খুটিনাটি বিষয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায় সময় ঝগড়া-বিবাধ হতো।
কিছুদিন আগে একটি স্বর্ণ বন্ধক নিয়েও ঝগড়া হয় তাদের মধ্যে। বিকেলে আমার শাশুড়িকে ফোন করে জানান, সুমি ও তার মেয়ে নাকি আত্মহত্যা করছে। এটা জানার পর আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ওড়নায় পেঁচানো অবস্থাৎ ঝুলছিলো মা-মেয়ের লাশ।
পরিকল্পিত ভাবে হত্যাকান্ড ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ঘটনার পর তার স্বামী মিজান ও তার মা পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর মিজানকে পাওয়া গেলেও তার মা পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে ও জানান দেন তিনি।
নিহতার মা হোসনে আরা বেগম (৬৮) অভিযোগ করে বলেন, বিকেলে মিজান ফোন করে বলতে থাকে আমার মেয়ে আর নাতনী মারা গেছে। এ সময়ে ও আমি আমার মেয়ের কান্নাজড়িত (গলা টিপে ধরার) কন্ঠস্বর শুনতে পাচ্ছিলাম মোবাইলে। আমি তাকে বলছি মোবাইলটা আমার মেয়েকে দেয়ার জন্য কিন্তু, সে দেয়নি। কিছুক্ষণ পর শুনি দু’জনই মারা গেছে। মেয়ে আর নাতনীকে হত্যা করা হয়েছে বলে ও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি তাদের বিচার দাবি করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মুহাম্মদ ইদ্রিছ বলেন, তার স্বামীই আমাকে ফোনে জানান-তার স্ত্রী ও মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। এটি শুনার পরই আমি ঘটনাস্থলে যাই এবং পুলিশকে জানাই।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মা-মেয়ে দুইজনের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতার স্বামী মিজানকে থানায় নিয়ে আসা হয়। পুলিশ এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে ও জানান ওসি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Like Our Page