মো. মানিক হোসেন :
রাজশাহীর পবা উপজেলায় চর মাজারদিয়াড় নামের একটি গ্রামে চর নবীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। ছাত্রজীবন গঠনে শিক্ষকরা নিয়ম শৃঙ্খলা শেখালেও এই বিদ্যালয়ে নিয়মের কিছুটা অনিয়ম রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এই স্কুলে বেলা ১১ টা থেকে বেলা ১২টায় শিক্ষকরা আসেন। ততক্ষণে ক্লাস নেন পিয়ন আর শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও স্কুলে পদ সংখ্যা অনুযায়ী শিক্ষক নেই। শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছেন। নদীর ওপার থেকে অফিসাররা এসে দেখেই চলে যান। কেউ সুরাহা দিতে পারেন না।
এই অনিয়মের পেছনের রহস্য তুলে ধরতেই প্রতিবেদকের অবস্থান। গত মাসের শেষ মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) প্রতিবেদকের সরেজমিনে উঠে আসে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনিয়ম। বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৩ শত ৪৭ জন শিক্ষার্থী। স্কুলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত হাজিরাও ভালো। তবে, সঠিক সময়ে স্কুলে শিক্ষার্থী পৌঁছালেও শিক্ষকরা পৌঁছান না। স্কুলে শিক্ষকরা আসতে না আসতেই ছুটির সময় হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, কোনদিনই প্রধান শিক্ষক বা অন্যান্য শিক্ষককরা বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময়ে আসেন না। বিদ্যালয়টিতে তিন থেকে চারজন শিক্ষক। পিয়ন রাসেল এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে বেলা সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাঠদানসহ দেখভাল করান। শিক্ষকদের চেয়ে পিয়ন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ভালো। শিক্ষকরাই বিদ্যালয়ের নিয়ম মানেননা। গত কয়েক মাস আগেই স্কুল পরিদর্শনে অফিসাররা এসেছিলেন। সকালে বের হয়ে এখানে এসে পৌঁছেছেন প্রায় দেড় টায়। উনারাও নিয়ম মানতে পারেন না।
প্রধান শিক্ষক মো. সালাউদ্দিন মীর বলেন, রাজশাহী শহর থেকে স্কুলের যাতায়াতের দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। এর মাঝে জল ও স্থল পথ। পদ্মা নদীর জায়গাটুকু নৌকায় করে পার হতে হয়। নৌকার মাঝিরা সকাল ১০টা না বাজলে নৌকা চালায় না। আবার, নৌকাপূর্ণ মানুষ না হলে পার করে না। নৌকায় নদী পার হতে ৩০ মিনিট সময় লাগে। এরপর মোটরসাইকেলে করে স্কুলে পৌঁছাতে হয়। মোট এক দেড় ঘন্টা সময় লাগে। যেখানে, আমরা শিক্ষকরা নিরুপায়। যাতায়াতের ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় এই অনিয়মটা হয়।
গ্রামের মেম্বার হুমায়ুন কবির বলেন, আমাদের সয়ে গেছে ব্যপারটা। কোন একটা উন্নয়ন খুব জোরালো ভাবে এই গ্রামে নেই। নাই সঠিক শিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা যাতায়াতের উন্নত মানের ব্যবস্থা। দেরিতে হলেও কোনমতে শিক্ষকরা আসেন যতটুকু পারেন চেষ্টা করেন। মাসে একেকটা শিক্ষকের যাতায়াত খরচই মনে হয় ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। আসা যাওয়া কষ্টকর। সরকার থেকে গ্রামবাসীর জন্য সুব্যবস্থা করলে আমরাও পিছিয়ে থাকতাম না।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার জোবায়দা রওশন জাহান বলেন, আমি রাজশাহীতে এসে ৩ মাস হয়েছে। স্কুলগুলো পরিদর্শন করছি। পিয়ন ক্লাস নিচ্ছেন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো। তবে, বিদ্যালয়টিতে যাতায়াতের সমস্যাটাই বড় সমস্যা। শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়নে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শিক্ষকের সংখ্যা কম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এই বিষয় নিয়ে বসবো। যাতে করে পদ অনুযায়ী শিক্ষক যোগদান করা যায়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সোহরাব হোসেন বলেন, শিক্ষা অফিসারকে জিজ্ঞেস করে জেনে বিষয়টি দেখছি।