বাগেরহাটের ফকিরহাটে এক ব্যবসায়ীর গোডাউন থেকে ৬০০ বস্তা ওএমএসের (খোলাবাজারে বিক্রির) সরকারি চাল জব্দ করা হয়েছে। ফকিরহাট থানা পুলিশ গতকাল বুধবার (২২ জানুয়ারি) রাতে জেলার ফকিরহাট উপজেলা সদরের কেরামত আলী মার্কেটের ‘মজুমদার ভাণ্ডার’ নামে ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত গোডাউন থেকে সরকারি ওই চাল জব্দ করে। এ সময় পুলিশ কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত চাল ব্যবসায়ীসহ দুজনকে হাতেনাতে আটক করে।
আটকৃতরা হলেন— চাল ব্যবসায়ী বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার কাথলী গ্রামের প্রফুল্ল মজুমদারের ছেলে আশাতীত মজুমদার (২৪) এবং তার গোডাউনের কর্মচারী একই উপজেলার বারাশিয়া গ্রামের দবির উদ্দি ভূঁইয়ার ছেলে আব্দুর রসুল (৪৩)।
জব্দকৃত ৬০০ বস্তার প্রতিটিতে ৩০ কেজি করে মোট এক হাজার ৮০০ কেজি চাল জব্দ করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ফকিরহাট থানার ওসি আলমগীর কবির জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গতকাল বুধবার রাত ৮টার দিকে চাল ব্যবসায়ী মজুমদার ভাণ্ডারের গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ওই গোডাউন থেকে ৬০০ বস্তা ওএসএসের সরকারি চাল জব্দ করা হয়েছে। প্রতিটি বস্তায় ৩০ কেজি করে চাল রয়েছে।
এ সময় কালোবাজারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চাল ব্যবসায়ী আশাতীত এবং তাদের গোডাউনের এক কর্মচারীকে আটক করা হয়।
তিনি আরো জানান, নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে সরকার ওএমএসের মাধ্যমে এই চাল স্বল্প মূল্যে বিক্রি করে থাকে। কিন্তু কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে ওই চাল ব্যক্তিগত গোডাউনে মজুদ করা হয়। এরপর তারা ওই চাল বাইরে বিক্রি করার জন্য সরকারি খাদ্য অধিদপ্তরের লোগোযুক্ত বস্তা পরিবর্তন করে ‘নূরজাহান ব্র্যান্ডের’ বস্তায় ভর্তি করছিল।
জব্দকৃত চাল থানায় আনা হয়েছে। এ ব্যাপারে পুলিশ বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয়ের আরো দুজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে। আটক আশাতীত মজুমদার ও আব্দুর রসুল ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। অপর তিন আসামিকে ধরতে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে বলে ওসি জানান।
আটক আশাতীত মজুমদার তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, বগুড়ার এক চালকল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তারা ওএমএসের ওই চাল ক্রয় করেন।
তাদের গোডাউনে চাল পৌঁছনোর পর পাইকারি এবং খুচরা বাজারে বিক্রির জন্য বস্তা পরিবর্তন করছিল।