রাজবাড়ীতে একই সময়ে এক নারীর দুই স্বামী নিয়ে সংসার করার বিষয়টি জানাজানি হয়েছে। প্রায় দুই বছর পর অবশেষে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এমনই এক ঘটনা ঘটেছে রাজবাড়ী সদর উপজেলা আলীপুর ইউনিয়নের ইন্দ্রনারায়নপুর গ্রামে।
জানা গেছে, চার বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর ২০২২ সালের ২৭ অক্টোবর নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে হলফনামার মাধ্যমে গোপনে বিয়ে করেন রাজবাড়ী সদরের আলীপুর ইউনিয়নের ইন্দ্রনারায়ণপুর গ্রামের আবু হানিফ শেখের ছেলে সাগর শেখ ও আলীপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম ভূঁইয়ার মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস। বাবা, মা ও ভাই প্রবাসে থাকায় বাবার বাড়িতে একাই বসবাস করতেন জান্নাতুল। সেখানে যাতায়াত করতেন স্বামী সাগর শেখ। সংসার জীবন ভালোই চলছিল এ দম্পতির। হঠাৎ জান্নাতুলের বাবা প্রবাস থেকে দেশে ফেরায় শ্বশুরবাড়ি যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায় সাগরের। এরই মধ্যে প্রথম বিয়ের কথা গোপন রেখে পরিবারের সিদ্ধান্তে অন্য এক যুবককে দ্বিতীয় বিয়ে করেন জান্নাতুল। এদিকে স্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের বাড়িতে তুলে না নেওয়ায় শ্বশুরবাড়ি গিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত সময় কাটান জান্নাতুলের দ্বিতীয় স্বামী।
অভিযুক্ত নারীর প্রথম স্বামী সাগর শেখ জানান, প্রেমের সম্পর্কের পর প্রায় দুই বছর আগে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের বিষয়টি তার স্ত্রীর মা ও বোন জানতেন। তিনি শ্বশুরবাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। হঠাৎ শ্বশুর বিদেশ থেকে ফেরায় ওই বাড়িতে তার যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। পেশায় ইউটিউবার হওয়ায় বিয়ের চার মাসের মাথায় ভিডিও কন্টেন্ট তৈরির কাজে কয়েকদিনের জন্য তিনি রাজবাড়ীর বাইরে যান। ফিরে এসে জানতে পারেন, তার স্ত্রী আরেক ছেলেকে বিয়ে করেছেন। পরে তার স্ত্রীকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, পরিবারের চাপে তিনি বিয়েটি করেছেন এবং ওই ছেলের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক হয়নি।
পরে শ্বশুরবাড়িতে যেতে না পেরে স্ত্রীকে নিয়ে রাজবাড়ী শহরে তার (স্ত্রীর) বোনের বাসায় সময় কাটাতেন। গত ২ নভেম্বর তারা ওই বাড়িতে তাদের দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকীও উদযাপন করেছেন। এর দুদিন পরে তিনি জানতে পারেন তার স্ত্রী দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলেছেন। ওই ছেলে নিয়মিত বাড়িতে আসা-যাওয়া করেন। পরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্ত্রী তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং সংসার করবেন না বলে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। ফলে বাধ্য হয়ে তিনি স্ত্রীকে ফিরে পেতে গত ১১ নভেম্বর আলীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ এবং ১৭ নভেম্বর রাজবাড়ীর ১ নম্বর আমলি আদালতে মামলা করেন।
সাগর শেখ বলেন, তাকে তালাক না দিয়ে অন্য আরেকজনকে বিয়ে করে প্রতারণা করেছেন তার স্ত্রী। তিনি স্ত্রীকে অনেক ভালোবাসেন। যে কারণে এখন পর্যন্ত তার পেছনে ২৫-৩০ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। এখনো তিনি তার স্ত্রীকে ফেরত চান।
এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ওই নারীর দ্বিতীয় স্বামী। তবে সাগরের সঙ্গে তার স্ত্রীর প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি জানলেও বিয়ের বিষয়টি জানা ছিল না বলে জানান তিনি।
দ্বিতীয় স্বামীর বাবা জানান, পারিবারিকভাবে ঘরোয়া আয়োজনে তার ছেলের সঙ্গে ওই মেয়েটির বিয়ে হয়েছে। এখন সাগর নামে ছেলেটি তাকে তার স্ত্রী বলে দাবি করছেন। বিষয়টি আইনিভাবেই সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নারীর মায়ের ভাষ্য, সাগর শেখের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়েছিল। তবে বিয়ের দুই মাসের মধ্যে তাদের ডিভোর্স হয়ে গেছে। তখন কিছু না বুঝে ওরা ডিভোর্সের কাগজ ছিঁড়ে ফেলেছে। এর ৪-৫ মাস পর মেয়েকে তারা আবার বিয়ে দিয়েছেন। এতদিন সাগর চাপে ফেলে তার মেয়েকে তার সঙ্গে সময় কাটাতে বাধ্য করেছেন।
আলীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বক্কার ছিদ্দিক জানান, সাগর ও মেয়েটির তালাকের নোটিশের কোনো কপি এখনো হাতে পাননি তিনি। তবে এ বিষয়ে সাগর ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মেয়ের বাবাকে নোটিশ দিয়ে ডেকে আনা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ছেলে, মেয়ে এবং তাদের অভিভাকদের নিয়ে বসা হয়েছিল। সেখানে মেয়েটি জানিয়েছেন, সাগরের সঙ্গে তিনি সংসার করবেন না।