মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আগামী কাল থেকে শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়া সকল পরিক্ষার্থীদের জন্য জিবিসি পরিবারের পক্ষ থেকে শুভ কামনা সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়নে মন্ত্রীর বক্তব্য ইতিবাচক: বিএমএসএফ করিমগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলনে ফসলি জমি বিলীন, ভাঙনের মুখে গ্রাম হারানো মোবাইল ফিরে পেলেন মালিকরা, কিশোরগঞ্জ পুলিশের সাফল্য চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে ব্যবসায়ীকে মারধর করে দেড় লাখ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা চট্টগ্রাম শহরের ‘ফুসফুস’ খ্যাত সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের ‘নতুন উদ্যোগের’ প্রতিবাদে মানববন্ধন চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে ট্রেন থেকে পড়ে কিশোর নিহত চট্টগ্রাম ১ মীরসরাই আসনের এমপি নুরুল আমিনকে প্রধান অতিথি বানিয়ে-সম্মাননা দিয়ে অতিতের সব কিছু বৈধ করে নিচ্ছে একটি মহল! গাজীপুরে দুই বাসের রেষারেষিতে সুপারভাইজারের মৃত্যু: মরদেহ সরালো মালিকপক্ষ! প্রবীণ সাংবাদিকদের অবসর ভাতার আশ্বাস তথ্য মন্ত্রীর প্রশংসনীয় উদ্যোগ

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পদে জয়ী লি জে-মিয়ং

পূর্ব এশিয়ার দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পদে জয়ী হয়েছেন লি জে-মিয়ং। দীর্ঘ রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার পর গতকালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন দেশটির বিরোধী এই নেতা।
পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে তা সামাল দেওয়াই এখন লি জে-মিয়ংয়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বুধবার (৪ জুন) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় কয়েক মাস ধরে চলা রাজনৈতিক সংকট ও বিশৃঙ্খলার পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছেন বিরোধী নেতা লি জে-মিয়ং।
মূলত এই নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয় সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের সামরিক শাসন জারির চেষ্টায়। তার এই স্বল্পস্থায়ী ও চরম বিতর্কিত সেই পদক্ষেপ দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের সৃষ্টি করে এবং শেষ পর্যন্ত পার্লামেন্ট তাকে অভিশংসনের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়। বর্তমানে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হয়েছেন।

মূলত এই ঘটনাগুলোর পর দেশজুড়ে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়, তা সামাল দেওয়াই এখন লি জে-মিয়ংয়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি এমন একটি সময় দায়িত্ব নিচ্ছেন, যখন দেশ অভ্যন্তরীণভাবে তীব্রভাবে বিভক্ত এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তাকে কঠিন কূটনৈতিক আলোচনায় অংশ নিতে হবে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি পুনরায় আলোচনা করে দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর শুল্কের চাপ কমাতে হবে।
বিবিসি বলছে, নির্বাচনে মিয়ংয়ের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ক্ষমতাসীন পিপল পাওয়ার পার্টির (পিপিপি) প্রার্থী কিম মুন-সু। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন জরিপে পিছিয়ে থাকা কিম নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল দেখে বুধবার ভোরে পরাজয় স্বীকার করেন এবং লিকে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানান।

লি নিজের বক্তব্যে সরাসরি জয় ঘোষণা না করলেও ইঙ্গিত দেন যে তিনি জিতেছেন। তিনি বলেন, তার প্রথম কাজ হবে “দক্ষিণ কোরিয়ার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার”। ৬১ বছর বয়সী এই রাজনীতিক মাত্র তিন বছর আগে খুব অল্প ভোটে ইউনের কাছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে গিয়েছিলেন। ফলে এটি তার জন্য এক অসাধারণ প্রত্যাবর্তন।
তবে লি নিজেও একাধিক রাজনৈতিক বিতর্ক ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত হয়েছেন। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কেলেঙ্কারিও তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করেছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনে অনেক ভোটার লি জে-মিয়ংয়ের প্রতি বিশেষ সমর্থন দেখাতে নয়, বরং ক্ষমতাসীন দলের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করতেই ভোট দিয়েছেন।

রাজনৈতিক পরামর্শক সংস্থা মিন কনসালটিংয়ের প্রেসিডেন্ট পার্ক সাং-মিন বিবিসিকে বলেন, “এই নির্বাচন ছিল এক ধরনের গণ-অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। মানুষ এখানে গণতন্ত্রের পক্ষে এবং সেনাশাসনের চেষ্টার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই জয় দেখিয়েছে যে দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণ গণতন্ত্রকে সব কিছুর ওপরে স্থান দেয়।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Like Our Page